হোম > সারা দেশ

বিএনপির দুর্গে ভাগ বসাতে চান জামায়াত প্রার্থীরা

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলা রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা মিছিল-সমাবেশ, পথসভা, ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং মোটরসাইকেল শোডাউন করছেন।

এলাকায় প্রচলিত ধারণা-সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াত প্রার্থীদের। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এই দুই নেতার বেশ জনসমর্থন রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর আংশিক)

এ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। একবার বাদে ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম ও তার ছেলে তানভীর শাকিল জয় বিজয়ী হয়েছেন। অবশ্য মধ্যে তিনটি নির্বাচনই ছিল সাজানো।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এই আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার। এলাকায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আব্দুল মজিদ মিনু। তার মৃত্যুর পর হাল ধরেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা।

২০১৮ সালে এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা। দলীয় মনোনয়ন পেলেও তিনি কোনোদিন নির্বাচনি এলাকায় ঢুকতে পারেননি। হঠাৎ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কনক চাঁপা আর কোনোদিন কাজীপুরে আসেননি। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী সেলিম রেজা ও নাজমুল হাসানকে সমর্থন করছেন। এই দুই নেতা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। বিভিন্ন মামলার আসামি ছিলেন, নির্যাতন ভোগ করেছেন। নাজমুল হাসান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে নেতাদের অনুরোধে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আব্দুল মজিদ মিনু ভাইকে দিয়ে দেয়। এবারো দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা করি।’

গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর আবার মনোনয়নের আশায় কাজীপুরে আসেন কনক চাঁপা। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সাড়া পাননি তিনি। কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসানও এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে দাঁড়িপাল্লার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনুর আলমকে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল। তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। গত ৫ আগস্টের পর মিছিল-সমাবেশ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ)

সিরাজগঞ্জ-২ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ভালো অবস্থানে ছিল। এরপর একতরফার নির্বাচনে আসনটি আওয়াম লীগ দখল করে নেয়। এ আসনেও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

১৯৯১ সালে এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা মোরাদুজ্জামান। এমপি থাকাবস্থায় ১৯৯৪ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। ১৯৯৮ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য)। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নাসিমকে পরাজিত করে চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে মামলা জটিলতায় নির্বাচন করতে পারেননি টুকু। মনোনয়ন দেওয়া হয় তার সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদকে। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী জান্নাত আরা হেনরীকে পরাজিত করেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন। তবে মামলার কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিদেশে চলে যান টুকু। এরপর তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু দলের হাল ধরেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ আসনে টুকু প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী প্রার্থী। নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন।

এ আসনে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তাঁতীবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মোকাদ্দেস আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নূর-ই-আলম হেলাল।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতেরও শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৭ বছরে তিনি একাধিক মামলার আসামি ও একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। জামায়াতের ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এ নির্বাচনি এলাকা।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ মজবুত। আমরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করতে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। এ কারণে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জনগণ আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করুকÑএটি মানুষের চাওয়া। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। সিরাজগঞ্জের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলে আশা করি।’

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ)

রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন গঠিত। শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত এই আসনটি ছিল খুবই অবহেলিত। যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাট ছিল না। ছিল শুধু ফসলি জমির মাঠ। ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসন থেকে পরপর চারবার নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদার। এ কারণে এই আসনটিকে বিএনপির দুর্গ বলা হয়। অবহেলিত এই জনপথকে পাল্টে দিয়েছেন আব্দুল মান্নান। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছেন তিনি। গত ১৮ জুলাই আব্দুল মান্নান ইন্তেকাল করেন। এবার তার ছেলে রাহিদ মান্নান লেলিন মনোনয়ন চাইবেন।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। চলছে মোটরসাইকেল শোডাউন ও কর্মিসভা। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ। বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেনÑ রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি আইনুল হক, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর ও রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দুলাল হোসেন খান। তবে প্রার্থীদের মধ্যে খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর ও ভিপি আইনুল হক শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের ধারণা। আওয়ামী লীগ সরকারের মামলা ও কারানির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে এই দুই নেতাকে।

ভিপি আইনুল হক বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রাজপথে ছিলাম। একাধিকবার কারাগারে আটক ছিলাম। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিগত ৯ বছর আমি তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলাম। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আমার পরিবার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আমরা মাঠে থেকে হাসিনাকে বিদায় করেছি। এলাকার নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। আশা করি দলের চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে মনোনয়ন দেবেন।’

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া)

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনকে বলা হয় শিক্ষানগরী। শুধু সিরাজগঞ্জ জেলা নয়, উত্তরাঞ্চলের মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সুনাম রয়েছে উল্লাপাড়ার। উল্লাপাড়াকে শিক্ষানগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলীর।

গত ১৭ বছরে উল্লাপাড়ায় খুব একটা উন্নয়ন হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন। তার আমলে এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে। উন্নয়নের চাইতে বিরোধী নেতাকর্মীদের দমনে বেশি সময় ব্যয় করেছেন তানভীর ইমাম। লুটপাটের স্বর্গরাজ্য ছিল তার আমলে। তার পিএসসহ একাধিক ঘনিষ্ঠজনকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে চিত্র পাল্টে গেছে। এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে এখানে। রফিকুল ইসলাম খান এখানে ব্যাপক জনপ্রিয়। এছাড়া দলটির সাংগঠনিক অবস্থান মজবুত। এজন্য বিএনপি থেকে যে কাউকে মনোনয়ন দিলে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন- সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী বিএনপির মনোনয়ন পেলে রফিকুল ইসলাম খানকে পরাজিত করা সম্ভব। তা না হলে সহজেই বিজয়ী হবেন রফিকুল ইসলাম খান। বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেনÑ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম শরফুদ্দিন মঞ্জু, উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহা, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল হাকিম সাজু, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান।

এম আকবর আলী বলেন, উল্লাপাড়ায় যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে আমি করেছি। উল্লাপাড়াকে শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপিরা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এলাকায় উন্নয়নের কাজ করব। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমি মনোনয়ন পেলে উল্লাপাড়াকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী)

নদীভাঙন কবলিত আর তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা সিরাজগঞ্জের বেলকুচি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেলকুচি ও চৌহালী ছিল আলাদা আসন। চৌহালী ছিল সিরাজগঞ্জ-৬ আসন। আর বেলকুচি-কামারখন্দ ছিল সিরাজগঞ্জ-৫ আসন। তবে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেলকুচি-চৌহালী মিলে একটি আসন করা হয়। তবে সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী) আসনটি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন স্থানীয়রা।

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনটিতে সমানতালে লড়াই করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল্লাহ খান বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ২০০১ সালে বিএনপির বিচারপতি মোজাম্মেল এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একতরফার নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।

এখানে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। জামায়াতপ্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম এই আসনে বেশ জনপ্রিয়। তিনি বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির। এ আসনে সাবেক এমপি শহিদুল্লাহ খানের ভাতিজা তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মওলা খান বাবলু ও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। উভয় দলের প্রচুর নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে।

অধ্যক্ষ আলী আলম বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা যেখানেই যাচ্ছি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এই এলাকার মানুষ আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। তারা আমাকে বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে বলে আশা করছি।

গোলাম মওলা খান বাবলু বলেন, আমার এই আসনটি নদীভাঙন ও তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা। অধিকাংশ ভোটার তাঁত ব্যবসা ও পেশায় জড়িত। এখানে তাঁতীদের অনেক সমস্যা আছে সেগুলো সমাধান করব। নদীভাঙন রোধে কাজ করব।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর)

আওয়ামী লীগের একতরফার নির্বাচন বাদ দিলে এ আসনটি বরাবরই বিএনপির দখলেই ছিল। এখানে বিএনপির প্রচুর কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। ১৯৯১ সাল থেকে এটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক গ্রুপে বিরোধ চলছে। হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। এ কারণে শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. এম এ মুহিত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ারের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। ডা. মুহিত জাতীয় পার্টি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এম এ মতিনের ছেলে। তিনি বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে দলে বিরোধ তৈরি হয়। ডা. মুহিত অধিকাংশ সময় বিদেশে অবস্থান করেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে, হরতাল-অবরোধ চলাকালে তাকে রাজপথে দেখা যায়নি। এজন্য দলের একাংশের নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে তিনি পাশে ছিলেন। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করেছেন।

আন্দোলন-সংগ্রামে এই আসনে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরু ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফ, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মিল্ক ভিটার পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মনির, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার ও শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম আরিফ।

ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, শাহজাদপুর উপজেলাকে বলা হয় বিএনপির ঘাঁটি। এখানে নদীভাঙন একটি বড় সমস্যা। আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করব, নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেব এবং নরিনা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সেতু নির্মাণ করব।

সিরাজগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাঈদ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জ-২ আসন ও যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। এই দুই নেতা সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ছয় পদে বিএনপির জয়

দর্শনায় হাতপায়ে শিকল বাঁধা অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার

ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

কুসিক প্রশাসক পদে আলোচনায় টিপু ও আবু

সহকারী শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর মানববন্ধনের ডাক

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

ব্যবসায়ীদের মার্জিমাফিক চলছে রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজার

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন এমডি হলেন ভারতীয় প্রকৌশলী রমানাথ