ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার দাবিতে আদালতে করা মামলার রায়ের ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ৫ মে রায়ের ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার শুনানির কথা থাকলেও দুপুরে সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও বরিশাল নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ হাসিবুল হাসান শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন। তবে শুনানীর নতুন তারিখ ধার্য করার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন চরমোনাইপন্থী নেতাকর্মীরা। পরে নতুন তারিখ ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র ভুয়া ভুয়া স্লোগান নিয়ে আদালতের প্রধান ফটকে পুলিশি বাধা উপক্ষো করে আদালত চক্তরে প্রবেশ করে চরমোনাইপন্থী নেতাকর্মীরা। এসময় আদালত ভবন চত্বরে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের আদালতের ফটক থেকে সরিয়ে দেন।
এর আগে সকালে একই দাবিতে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে মামলার রায় শোনার জন্য বেলা ১১ টার দিকে মিছিল সহকারে বরিশাল জেলা দায়রা ও জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে এসে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। এতে সদর রোড এবং আদালতের সামনের সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পরেন পথচারীরা।
মামলার বাদীর পক্ষের আইনজীবী এ্যাড. শেখ আব্দুল্লাহ নাসের জানান, আজ বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিলো। কিন্তু দুপুরের দিকে সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও বরিশাল নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ হাসিবুল হাসান শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন। আগামী ৫ মে রায় ঘোষণার নতুন তারিখ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি। তবে রায় সন্তুষ্ট না হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। তিনি আরো বলেন রায় ঘোষণার সময় পিছিয়ে দেওয়ায় বরিশালবাসী মিছিল করেছে।
চরমোনাইপন্থী নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে ফলাফল কর চুপি করে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করেছিলো। সেই ফলাফল বাতিল করে ২য় অবস্থানে থাকা তাদের হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করতে হবে। নয়তো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
চলতি বছরের গত ১৭ এপ্রিল শায়েখে চরমোনাই ফয়জুল করীম বরিশালের মেয়র হতে মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত ৮৫ হাজার ৭৫২ ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ৩৪ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছিলেন।
এদিকে বুধবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসও সেই ভোটের ফলাফল বাতিল চয়ে আদালতে একটি মামলা দয়ের করেন।