সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, পৌঁছে গেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনি আমেজে উৎসবমুখর সারা দেশ। ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম গতকাল বুধবার পৌঁছে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা । জোরদার করা হয়েছে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে ভোটগ্রহণের জন্য দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে সব কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে।
ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল বুধবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রগুলোয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠায় কমিশন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
দুর্গাপুর উপজেলায় এবার নির্বাচনে ৬৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য বুধবার নির্বাচনের সব সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও গেছেন কেন্দ্রগুলোয়।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাশতুরা আমিনা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে।
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোয় পৌঁছানোর জন্য শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিতরণ করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এ এলাকার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে মাদারীপুর-১ আসনের কেন্দ্রগুলোয় নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়। দুপুর থেকে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, ভোটার তালিকা, অমোচনীয় কালিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কড়া নিরাপত্তায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেয় শিবচর উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ভোটের সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এসব ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ভোটের সামগ্রী বিতরণের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন আরো জানায়, গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোয় অতিরিক্ত নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের ২২টি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। গতকাল বুধবার সকাল থেকে কাপ্তাই উপজেলা বিআরডিবি অফিস হতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়ালের কাছ থেকে প্রিসাইডিং অফিসাররা নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার, সিল, স্বচ্ছ ব্যালেট বাক্স, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্পপ্যাডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বুঝে নেন। এ সময় কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র, কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেলসহ পুলিশ, আনসার সদস্য এবং ভোটগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ১১৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে উখিয়া ও টেকনাফের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, আসনের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কেন্দ্রগুলোয় পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কেন্দ্রগুলোতে। কোস্ট গার্ডের কড়া নিরাপত্তায় সেখানে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, গতকাল বুধবার সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
উখিয়া থানার ওসি নুর আহমেদ জানান, বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ধামইরহাট উপজেলার ৫৩টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অমোচনীয় কালিসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম। গতকাল দুপুর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রগুলোয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁচ্ছানোর কার্যক্রম তদারক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রশান্ত চক্রবর্তী।
বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, বারহাট্টা উপজেলার ৪৯ কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাচনি কন্ট্রোল রুম থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারদের ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালি ও কলম, স্ট্যাম্পপ্যাড, সিলসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভোটের জন্য যেসব সরঞ্জামাদি প্রয়োজন সেগুলো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রত্যেক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের ১৫৯ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তানোর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রিসাইডিং অফিসারদের মাঝে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, কাউখালীতে ৩৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বক্সসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা পৌঁছে গেছে। উপজেলায় ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াইফাই লাইন সংযুক্ত করা হয়েছে।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর পাঁচটি আসনের ৬৬৩ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, গণভোটের পেপার, স্ট্যাম্পপ্যাড, অমোচনীয় কালি, ব্যালট বক্স, গালা, চার্জার লাইট, ক্যালকুলেটর স্টেপলারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন আকন্দ জানান, নরসিংদীর পাঁচটি আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলার সদর ও রায়পুরা আসনের ১১টি চরাঞ্চল ইউনিয়েনের প্রতিটি কেন্দ্রে শতভাগ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনের ভোটগ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে সব কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে। ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এবার নির্বাচনে ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য বুধবার নির্বাচনের সব সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও কেন্দ্রগুলোয় গেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে।
হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের ভোটগ্রহণের জন্য হাইমচর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে সব কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রগুলোয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠায় নির্বাচন কমিশন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে নিয়ে যান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। হাইমচর উপজেলায় এবার নির্বাচনে ৩২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে জন্য বুধবার নির্বাচনের সব সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও গেছেন কেন্দ্রগুলোয়।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বুধবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে কড়া নিরাপত্তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ নির্বাচনি আসন। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ২৫ হাজার ১১ জন। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম বুঝে নেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতপুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পাবনার চাটমোহরে ৮৭টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য মালামাল পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী নির্বাচনি সামগ্রী বুঝিয়ে দেন।
মুসা নাসের চৌধুরী জানান, নিবার্চন উপলক্ষে ইতোমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চাটমোহর উপজেলায় দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ ভোটার রয়েছেন।