হোম > বাণিজ্য > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

খেলাপি ঋণ আদায়ে এগিয়ে রূপালী ব্যাংক

রোহান রাজিব

খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের রূপালী ব্যাংক। গত বছর রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে এগিয়ে ছিল এই ব্যাংকটি। ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোহান রাজিব।

আমার দেশ : ২০২৫ সালে রূপালী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?

ওয়াহিদুল ইসলাম : ২০২৫ সালে আমানত সংগ্রহ ও নতুন হিসাব খোলায় ভালো করেছে ব্যাংক। এছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় রেকর্ড গড়েছে। খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি প্রভিশন ঘাটতিও কমিয়ে এনেছে। গত বছর ব্যাংক নতুন করে আট লাখ ৪৯ হাজারের বেশি হিসাব খোলা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় দুই লাখ ৫০ হাজার বেশি। একই সময়ে ব্যাংকের আমানত বেড়েছে প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা সুদবিহীন ও স্বল্প সুদের আমানত। গত বছর ব্যাংকের জন্য ‘খেলাপি ঋণ আদায় বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কারণ, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে রূপালী ব্যাংক সর্বোচ্চ এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা নগদ খেলাপি ঋণ আদায় করেছে। এছাড়াও সমন্বয়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ থেকে পাঁচ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এতে গত বছর মোট ছয় হাজার ৬৯২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় হয়। ফলে বর্তমানে খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বা ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ২১ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বা ৪১ দশমিক ৬০ শতাংশ। খেলাপি ঋণ আদায়ের ফলে গত বছর প্রভিশন ঘাটতি কমেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

আমার দেশ : শীর্ষ ঋণখেলাপি থেকে আদায়ের অবস্থা কী?

ওয়াহিদুল ইসলাম : গত বছর শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩৬১ কোটি টাকা নগদ আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায় হয় আরো এক হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আদায় রূপালী ব্যাংকের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

আমার দেশ : খেলাপি ঋণ আদায়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

ওয়াহিদুল ইসলাম : খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে মামলা ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তদারকির ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮২৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়, যেখানে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৭১টি। দ্রুত আইনি সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে নিয়োগ দেওয়া হয় একজন চিফ লিগ্যাল অ্যাডভাইজার। এই উদ্যোগগুলোর ফলে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের চিত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

আমার দেশ : বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নীতি সহায়তার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক এ পর্যন্ত কতজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর ঋণ পুনঃতফসিল করেছে?

ওয়াহিদুল ইসলাম : গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার আলোকে ৩৫ গ্রাহকের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। যার ফলে ছয় হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত হয়েছে। আরো কিছু পুনঃতফসিলের কাজ প্রক্রিয়াধীন। যারা নিয়ম মেনে পুনঃতফসিল করতে আসবে, তাদের সবাইকে সে সুবিধা দেওয়া হবে।

আমার দেশ : রূপালী ব্যাংক বর্তমানে কী ধরনের বিনিয়োগ করছে?

ওয়াহিদুল ইসলাম : উৎপাদনমুখী ও এসএমই খাতেও ঋণ সম্প্রসারণ করেছে রূপালী ব্যাংক। ২০২৫ সালে এসএমই খাতে নতুন করে এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়, যা ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ বিতরণ করেছে ব্যাংক।

আমার দেশ : গত বছর রেমিট্যান্স আহরণে রূপালী ব্যাংকের অবস্থান কেমন ছিল?

ওয়াহিদুল ইসলাম : রেমিট্যান্স আহরণেও সাফল্য দেখিয়েছে রূপালী ব্যাংক। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এছাড়া গত বছরের রেমিট্যান্স অর্জনকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থানে। এক্সচেঞ্জ হাউসের কার্যক্রম জোরদার, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা এবং ডিজিটাল চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এই অগ্রগতি এসেছে।

আমার দেশ : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে রূপালী ব্যাংকের পরিস্থিতি কেমন?

ওয়াহিদুল ইসলাম : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রূপালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে পরিচালিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রূপালী ক্যাশ’ চালু করা হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজ ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেন সুবিধা পাচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একজন চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আমার দেশ : নতুন বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন…

ওয়াহিদুল ইসলাম : আমাদের লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়; বরং ব্যাংককে একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নই আমাদের অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি। আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খেলাপি ঋণ আদায় চলবেই।

টালমাটাল সোনার বাজার, অনিশ্চয়তায় ক্রেতা-বিক্রেতা

টাকা ফেরত পাবেন ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা

পরিচালকদের টানা তিন মাসের বেশি ছুটি নয়

বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট: গভর্নর