আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিজিবির নির্বাচনী পেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক আজ সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজে এবং দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে স্থাপিত বিজিবির নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। উক্ত স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলাসমূহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৃথক পৃথক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। ভোটারগণ যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদাসহ সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF), র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড ইউনিট, ড্রোন এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সভায় সেনাবাহিনী, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, জেলা নির্বাচন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিজিবি সদর দপ্তর, যশোর রিজিয়ন, খুলনা ও কুষ্টিয়া সেক্টরের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক বেইজ ক্যাম্পে নিয়োজিত বিজিবির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। ভোটাররা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে এবং শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য সামনের দিনগুলিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক টহল পরিচালনার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি কোন দুষ্কৃতিকারী বা কুচক্রীমহল যাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা শক্ত ও দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবির প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।