হোম > শিক্ষা

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দখল নিতে নানা অপতৎপরতা

খুলনা ব্যুরো

ছবি : সংগৃহীত

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দখলে নিতে চলছে নানামুখী তৎপরতা। ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া এসব তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব পদ দখলের পর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করাসহ তিন ট্রাস্টির বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দখলদার ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতার প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন পবিত্র কুমার সরকার। পরে তাকে ভাংচুর মামলায় গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। শুরুতে এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। তখন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী। তিনি মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নামে দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করেন।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২১ মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান। সিরাজুল হক চৌধুরী, পবিত্র কুমার সরকারসহ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন মিজান। দখল বজায় রাখতে ২০২৪ সালের ২৬ জুন বিএনপির সমাবেশে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ইউনিভার্সিটির তিন ট্রাস্টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়। এরপর খুলনা মহানগর হাকিমের আদালতে চেয়ারম্যানসহ চার ট্রাস্টির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, দখলের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে তারা অভিযোগ জমা দেন। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১২ নভেম্বর ইউজিসি চিঠি দিয়ে জানায়, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন। পরবর্তী সময়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. রাশিদুল আলম মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে ট্রাস্টি হিসেবে কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এদিকে রায়ের পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তারা। সম্প্রতি এই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল হয়েছে, যার শুনানি আগামী ১৬ এপ্রিল। এর আগেই পবিত্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

পবিত্র সরকারের স্ত্রী বিউটি মণ্ডল বলেন, ‘ডিবি অফিসে তাকে বলেছেÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা তুলে নিলে আর কোনো ঝামেলা হবে না।’

২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দায়ের করা যে ভাংচুর মামলায় পবিত্র সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তার বাদী মহিলা দল নেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা লিন্ডা। মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এর মধ্যে পবিত্র সরকারের নাম নেই।
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সবাই আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালত তাদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অথচ আমরা কেউ সেখানে যেতে পারছি না।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর ইউনিভার্সিটি বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। আমি দায়িত্ব নিয়ে একে বাঁচিয়ে রাখি। নিজস্ব ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ শুরু করি। প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনি। এখন নিয়মিতভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে। প্রতি সেশনে প্রচুর শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানের এই সুসময় দেখে পালিয়ে যাওয়া ট্রাস্টিদের একটা অংশ আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

ঢাবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিঝু উৎসব উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয়, পুতিনকে জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুত চারুকলা, ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় শুরু শোভাযাত্রা

জ্বালানি অপচয় রোধে ঢাবিতে ছাত্রদল নেতার সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

হাবিপ্রবিতে কর্মচারির হামলায় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

ইবির স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হতে পারে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস শুরু

এজিএসসহ রাবির ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িক বাতিল

আমার দেশে নিউজ প্রকাশের পর চালু হলো শাবিপ্রবির নতুন বাস