তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন আকারে পাসের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডব়্প।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশটি জারি করেছে। তবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাস করানো জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে দেশের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতির ব্যয় মোট ব্যয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ। একই সময়ে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ক্ষতির অর্ধেকেরও কম। তাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাক হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বক্তারা আরও বলেন, অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনে আইন মন্ত্রণালয়কে সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডব়্প-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রমুখ।