হোম > শিক্ষা > প্রাথমিক

এখনো অনেক বই পায়নি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা

সরদার আনিছ

কথা দিয়েও রাখতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মাধ্যমিকের সব বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীরা পাবে বলে এর আগে জানিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা বেশকিছু বই হাতে পায়নি। এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে মুদ্রণের গতি কমে যাওয়ায় ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশ বই পেয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে গতকাল বিকালে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মতিউর রহমান খান পাঠান আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ পাঁচ শতাংশ বই বাকি আছে; আগামী রোববার শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে। ওইদিন ৯৮ শতাংশ বই পেয়ে যাবে তারা। বাকি দুই শতাংশও আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে না পারার ব্যাখ্যায় এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেন, এনসিটিবি নিজে কোনো বই ছাপে না; তারা ১০৫টি প্রেসের ওপর নির্ভরশীল। তাদের দেওয়া তথ্য ও কাজের গতির ভিত্তিতে ১৫ জানুয়ারির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মাঝখানে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে মুদ্রণ গতি কমে যায়। ফলে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করছি, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশ বই পেয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা ।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবি অডিটরিয়ামে চলতি বছরের পাঠ্যপুস্তকের সফট কপি অনলাইনে উন্মুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার বলেন, ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার নাগাদ প্রায় এক কোটি বই পৌঁছায়নি স্কুলে। এনসিটিবি বলছে, যথাসময়ে বই দিতে প্রেসগুলোকে তাগাদা দিচ্ছেন তারা।

এদিকে কর্মকর্তাদের দাবি, গত দেড় দশকে কখনোই নতুন বছরের শুরুতে শতভাগ বই পৌঁছানো যায়নি। কোনো কোনো বছর মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগেছে। সে অর্থে এবার ২০ জানুয়ারির মধ্যে বই গেলেও তা এনসিটিবির জন্য নতুন মাইলফলক। এমনকি জানুয়ারির মধ্যে সব বই পৌঁছে দেওয়া গেলেও এনসিটিবির জন্য একটা বড় অর্জন হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য সাধারণের সঙ্গে মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে ৩০ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি বইয়ের মধ্যে এখনো প্রায় এক কোটি বই বিতরণ বাকি রয়ে গেছে।