সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাধারণ এক কাজ দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেলাম। ‘চুড়ি’। না, মেলা থেকে কেনা রেশমি চুড়ি নয়।
প্রিয়া বিনতে কামালের হাতের কারুকাজ। এত সুন্দর ও মোহনীয় ছিল যে, নজর সরাতেই পারছিলাম না! নিজের হাতে করা কারুকাজ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নীরবে। অনেকেই অর্ডার করছেন তার এসব সুন্দর পণ্যের।
এদিকে আমার স্ত্রী চুড়ির জন্য বায়না না ধরলেও মুগ্ধ হয়ে নিয়ে নিলাম। আমিও চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে দিলেন খুব দ্রুত। দামও খুব কম। অবশ্য এই সৌন্দর্যের কাছে দাম কিছুই ছিল না।
প্রিয়া বিনতে কামাল। নিজের হাতের কাজ শুরু করেছেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। এ কাজের মধ্যে নিজের হাতে তৈরি করা রঙবেরঙের বাহারি ডিজাইনের চুড়িই বেশি। পোশাকেও ডিজাইন করেন। সংসার সামলে অবসরে নিজের একটা কিছু প্রতিষ্ঠা করতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষায় ট্রাই করে যাচ্ছেন। তবে নিজের কাজ ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর চাকরির প্রতি দিন দিন আগ্রহ কমে যাচ্ছে। প্রথমে পরিচিত স্বজনরা প্রিয়ার কাছ থেকে পণ্য কিনতেন। এখন তিনি নিজের পণ্য দূর থেকে দূরেও হোম ডেলিভারি দিচ্ছেন। বিভিন্ন মেলায় স্টল দিয়ে সাড়া পাচ্ছেন।
এত অল্প সময়ে মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হবেন, তা কখনো ভাবতে পারেননি। এ বছর রমজানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। অক্লান্ত পরিশ্রমে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। গত রমজানেই অনলাইনে যাত্রা শুরু। পেজ খুলে চলে প্রচারের চেষ্টা। বৈশাখে ফেনী পিটিআই স্কুলমাঠে মেলা শুরু হয়। সে মেলায় নিজের হাতের কাজ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়ে খুব আনন্দিত প্রিয়া।
প্রিয়ার সঙ্গে কিছু কথোপকথন
এবারের বৈশাখী মেলায় রুমা নাছরিন আপুর সহযোগিতা ও আফরোজা আপুর উৎসাহে আমার প্রচুর চুড়ি বিক্রি হয়েছে এবং অনেক নতুন ক্রেতার সাড়া পেয়েছি। চুড়ির পাশাপাশি আমি হাতের সেলাই কাজের জামা করে থাকি। এই জামা ছোট-বড় সব সাইজের করি। যাতে সব বয়সের ক্রেতার চাহিদা মেটাতে পারি। শাড়িতে বিভিন্ন ডিজাইন করি। এখন সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছি বেশি। ছোট-বড় সব জামাতেই ডিজাইন নিজেই করি।
মায়ের কাছ থেকে হাতের নকশিকাঁথার কাজ আয়ত্ত করেছি। এই হাতের কাজে আসার পেছনে মায়ের উৎসাহ আর অবদানই বেশি। বেশ কবছর আগ থেকে শখের বশে নিয়মিত ওয়ালচিত্র করতাম।
২০১৯ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএসএস শেষ করেন প্রিয়া। লেখাপড়া শেষ করার পর চাকরি করার প্রবল ইচ্ছা ছিল; কিন্তু কিছু প্রতিকূলতার জন্য তা আর হয়ে ওঠেনি। এখন নিজের হাতের কাজে দক্ষতা বাড়ানোর অবিরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নতুন নতুন অনেক কাজ শিখছেন। পেজ Daily fashion wear থেকে কাজ করছেন। একটা গ্রুপও চালু আছে তার। দেশি পণ্য নিয়েই কাজ করে এগিয়ে যেতে চান প্রিয়া।