হোম > সাহিত্য সাময়িকী

বইমেলার প্রাণ তরুণদের লিটলম্যাগ কর্নার

রায়হান আহমেদ তামীম ও মাহমুদ হুজাইফা

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী আয়োজিত ইসলামি বইমেলায় প্রতিদিনই জড়ো হন হাজারো মানুষ। বিশেষত সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে বইপ্রেমীদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। আর এই জনস্রোতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একদল স্বপ্নবাজ তরুণের হাতে গড়া ‘লিটলম্যাগ কর্নার’। নানা ধরনের ছোটকাগজে সুসজ্জিত এই কর্নারটি মেলায় এনেছে নতুন প্রাণোৎসব।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে স্বল্প পরিসরে শুরু হওয়া এই মেলা এখন দেশের বৃহত্তর বইমেলায় রূপ নিয়েছে। মেলার পরিসর বাইতুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট ও পূর্ব গেট থেকে দৈনিক বাংলার মূল সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এই আয়োজনেই এক নতুন প্রত্যয় নিয়ে স্থান করে নিয়েছে ‘লিটলম্যাগ কর্নার’।

মূলত, এই কর্নারটি ছিল এক অনলাইন স্বপ্নের বাস্তব রূপ। তিন বছর আগে কিছু তরুণ ‘লিটলম্যাগ আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাধনার পর সেই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫ সালের ইসলামি বইমেলায় দৃশ্যমান হয়েছে। কর্নারে প্রায় একশ ছোটকাগজ স্থান পেয়েছে। কেবল প্রদর্শনী নয়, এটি হয়ে উঠেছে লেখক-পাঠকদের আনন্দমুখর আড্ডার জায়গাও। প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতি ও শুক্রবারে এখানে আয়োজিত হয় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, প্রকাশনা উৎসব, পাঠচক্র এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্যোগগুলোয় নিয়মিত উপস্থিত থাকেন দেশবরেণ্য লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদকরা। মেলার দ্বিতীয় শুক্রবার লিটলম্যাগ কর্নারে গিয়ে দেখা মিলল বাংলার মুসলিম ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত ‘মিরাছ’ ম্যাগাজিনের পাঠোন্মোচনে উপস্থিত হয়েছেন কবি হাসান রোবায়েতসহ আরো অনেকেই।

বাংলা ও আরবি ভাষার প্রায় শ’খানেক ম্যাগাজিন স্থান পেয়েছে এই কর্নারে। প্রতিটি ম্যাগাজিন কোনো না কোনো মননশীল ধারার প্রতিনিধিত্ব করছে, সচেতন পাঠকমাত্রই তা টের পাবেন। এইসব ছোটকাগজের বৈচিত্র্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

দেশ-বিদেশের রাজনীতি ও সমকালীন অ্যাকটিভিজম নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গুলবার ফাহিম সম্পাদিত প্রলয়শিখা এবং ইউসুফ আম্মার ও মাহমুদ হুজাইফা সম্পাদিত মিনহাল। চিন্তা ও গবেষণাধর্মী ম্যাগাজিনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঈদ আবরার-সম্পাদিত চিন্তাচর্চা, মৌলভি আশরাফ সম্পাদিত চিন্তানামা, মিহওয়ার, শিউলিনামা, নবচিন্তা ও ঝরোকা, যা সৃজন ও মননশীলতার এক সম্ভাবনাময় প্রকাশ।

কিশোর ম্যাগাজিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিয়াউল আশরাফ সম্পাদিত মাসিক নকীব, সালাউদ্দিন জাহাঙ্গীর সম্পাদিত মাসিক নবধ্বনি এবং নকীব মাহমুদ সম্পাদিত সালামি ও তারাফুল।

শিল্প ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক ম্যাগাজিনগুলোর মধ্যে রয়েছে চতুর্ভুজ, আবদুল জলিল সম্পাদিত সাহিত্য সৌরভ, খালেদ নিশাচর সম্পাদিত সৃজনযাত্রা, ইশতেহার ও সংযুক্তি। শুধু তরজমাভিত্তিক ম্যাগাজিন হিসেবে প্রদর্শনীতে দেখা গেল মুজাহিদ এবং মুয়ায আব্দুল্লাহ সম্পাদিত ‘নকলখানা’। বাংলার মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে চমৎকার কাজ করছে ‘মিরাছ’।

এক ব্যতিক্রমী ধারার জন্ম দিয়েছে নাঈম সালেহ ও মাহমুদ হাসান সম্পাদিত ‘প্রেমপত্র’। তাদের ভাষ্যমতে, এটি শুধুই পত্রসাহিত্য নিয়ে, যা বাংলা সাহিত্যে লিটলম্যাগ আকারে এই ধারার প্রথম প্রয়াস বলে ধারণা করা যায়।

এছাড়া হাতে লেখা ও আঁকা পত্রিকা হিসেবে রয়েছে ‘যমযম’ ও ‘ঐতিহ্য’। অন্যদিকে আরবি ভাষার মোট ১২টি ম্যাগাজিন স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আল মিদাদ, মিশওয়ার, ইবদা, ইশরাক, আর রাশিদ, আর রিফাদাহ, আল ইত্তেহাদ প্রভৃতি।

লিটলম্যাগ কর্নারে সহায়তা করেছে মাওলানা মামুনুল হক পরিচালিত তাগলিবে দ্বীন ফাউন্ডেশন।

কর্নার প্রদর্শনে এসেছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, মাওলানা মামুনুল হক, বেপাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক প্রমুখ।

ধর্মদ্রোহীদের কাছে খলিফা আবু বকরের পত্র

ফিলিস্তিন অভিযানে উসামার সেনাবাহিনী (শেষ পর্ব)

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ

শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’

তুমি দেশি কবিতা

ভাষা ও ভাবের লেনা-দেনা

হারিয়ে যাওয়া একুশে ফেব্রুয়ারি

বাংলায় আরব মুসলিমদের বসতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য

বাঘা মসজিদ ও মাদরাসা

ঢাকায় রমজান উদ্‌যাপন