হোম > ফিচার > সাহিত্য সাময়িকী

বইমেলা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে না

মাঈন উদ্দিন জাহেদ

ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষা চর্চা আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের স্মারক হিসেবে উপস্থিত হয়। মাসজুড়ে চলে আলোচনা-অনুষ্ঠান-আবৃত্তি-গান-কবিতা ও ভাষা কেন্দ্রিক নানান আয়োজন। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের অন্যতম উৎসব একুশে বইমেলা। সারা বছর চলে লেখক-শিল্পীদের প্রস্তুতি, মেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশের আয়োজন। এ বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পে যোগ হয় বাড়তি তৎপরতা। এর ফলিত প্রকাশ আমরা দেখি একুশে বইমেলায়। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বইমেলা হয়ে ওঠে প্রধান আলোচ‍্য।

জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বাকবদলের ঘটনা। রাজপথের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো মানুষ ভুলতে পারেনি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা, যারা এত বছর তাকে স্বৈরাচার হতে সহযোগিতা করেছে, পালিয়ে যায়নি। কেউ কেউ কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে আছে। নেপথ্যে থেকে এখনো কলকাঠি নাড়ছে। বিপ্লবোত্তর এমন নাজুক পরিস্থিতি জাতি দেখেছিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর। এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে বইমেলার মতো জনবান্ধব আয়োজন, যা আবার দীর্ঘমেয়াদি, তা সত্যিই কষ্টকর ও নিরাপত্তা শঙ্কার।

চট্টগ্রামের বইমেলার দায়িত্ব মূলত সৃজনশীল প্রকাশক সংস্থার। অর্থায়ন ও সামগ্রিক সহায়তা দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন। অমর একুশে বইমেলা কমিটি গঠন করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় করা হয়। বিগত দিনের চট্টগ্রাম বইমেলা এ প্রক্রিয়ায় হয়ে এসেছে।

বিপ্লবোত্তর সময়ে মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনায় তেমন সময় পাননি। খুব অল্প সময়ে আমরা লক্ষ করেছি তিনি যথেষ্ট সময় ও সহায়তা দিয়ে মেলাটি সফল করতে চেষ্টা করেছেন। বিশাল পরিসরে কমিটি থাকলেও মূলত সেটার মূল দায়িত্বে থাকেন সদস্য সচিব বা সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থার সভাপতির পদাকারী। তবে এবার পুরো মেলাটি এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানগুলোর মান জনআকাঙ্ক্ষা কতটা পূর্ণ করেছে, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।

এমনকি অতিথি নির্ধারণ করা হয়ছে বিগত স্বৈরশাসকের তোষামোদকারী শিল্পী-সাহিত্যিকদের। এতে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহত পরিবার সংগত কারণেই মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন।

এবার বইমেলায় ১৪০টার মত স্টল বরাদ্ধ পেয়েছে। অধিকাংশ প্রকাশনী চট্টগ্রামের। সেটা হওয়ারই স্বাভাবিক। ঢাকা থেকেও বেশ কিছু প্রকাশনী স্টল পোরছে। তবে বিশেষ করে সরকারী সংস্থার স্টলগুলো আনার ব্যবস্থা কেনো হয়নি, বিষয়টি পরিস্কার না। বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- যাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্র আছে, তাদের সেবাও চট্টগ্রামবাসী মেলায় পেল না।

মঞ্চ ব্যবস্থাপনা যথার্থ হয়েছে, বলার সুযোগ নেই। প্রবেশমুখেই জনসমাবেশের আয়োজন জটলা সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আয়োজনস্থান মাঠের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা মানুষগুলো পুরো মেলা ঘুরে দেখার মওকা পেতো। মেলা আরও বিপনন উপযোগী হতো।

প্রকাশনী সংস্থার অনেকের সাথে আলাপ করে জানলাম, ব্যবসা-বিক্রি কোনোরকম। বইমেলা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে না। দেশ দূর্ভিক্ষের কবলে পরে যাচ্ছে যাচ্ছে- এমন অবস্থা থেকে ফিরে এলো। ব্যাংকগুলোর কি করুণ শোচনীয় অবস্থা। এ অবস্থায় বই কেনা তো খাবারের সঙ্গে সালাদ খাওয়ার মত বিলাসিতা। জীবন যাপন যেখানে সাধারণ নাগরিকের জন্য এমন কঠিন, সেখানে মনের খাদ্যের আয়োজন একটু বিলম্বে হলেও চলে। তবে প্রকাশকরা আশাবাদী, এমন নিদারুণ পরিস্থিতিতেও মেলাটা সামাল দেওয়া গেছে ।

প্রতিবারের মতো এবারও মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ। আশা করি, আগামী মেলা আরো পরিকল্পিত, গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে এবং মানবিক চেতনার মেলা হিসেবে আয়োজিত হবে, সে মেলার প্রত্যাশায়।

ধর্মদ্রোহীদের কাছে খলিফা আবু বকরের পত্র

ফিলিস্তিন অভিযানে উসামার সেনাবাহিনী (শেষ পর্ব)

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ

শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’

তুমি দেশি কবিতা

ভাষা ও ভাবের লেনা-দেনা

হারিয়ে যাওয়া একুশে ফেব্রুয়ারি

বাংলায় আরব মুসলিমদের বসতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য

বাঘা মসজিদ ও মাদরাসা

ঢাকায় রমজান উদ্‌যাপন