গত ২ নভেম্বর উদ্বোধন করা হলো মহান মিসরীয় জাদুঘর, যেখানে ৭৯টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা, ঐতিহ্য এবং বর্তমান সময়ে এর স্থায়ী প্রভাব প্রদর্শন করা হয়। গিজা পিরামিডের পাশে অবস্থিত মহান মিসরীয় জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে সেদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল মিসর। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এ বিশাল ভবনটিকে ‘একবিংশ শতাব্দীর বৃহত্তম সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ’ বলে অভিহিত করে।
প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এক লাখের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন ধারণ করতে সক্ষম এই বিশাল প্রকল্পটি ২০০২ সালে শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালের চলতি মাসে এ মাসে উদ্বোধন করা হয়।
জাদুঘরের প্রবেশপথে রাজা দ্বিতীয় রামসেসের একটি বিশাল মূর্তি রয়েছে, যা কায়রো শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি চত্বরে কয়েক দশক ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। জাদুঘরে পুরাকীর্তিগুলোর জন্য একটি পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে, যা এক্ষেত্রে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি। এটি ৩২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত।
মহান মিশরীয় জাদুঘরে ফারাও যুগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো বিশাল মূর্তি, কফিন, সরঞ্জাম ও গয়না। যেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছিল এবং এখন ৫০ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে প্রদর্শিত হচ্ছে।
আধুনিকভাবে পরিকল্পিত এই জাদুঘরে ৩০টি ফারাও রাজবংশের প্রায় এক লাখ নিদর্শন রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক প্রদর্শনীতে থাকবে। বাকিগুলো গুদামে রাখা হবে।
উপরের তলায় ১২টি হলরুমে প্রদর্শিত ফারাও সভ্যতার ইতিহাসের টুকরো রয়েছে, যা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে গ্রিকো-রোমান যুগ পর্যন্ত ৩০টি রাজবংশের ৫০ শতাব্দীর ইতিহাস জুড়ে বিস্তৃত।
ভবনটিতে গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত স্টোরেজ, পরীক্ষাগার, পুনরুদ্ধার কর্মশালা, গ্রন্থাগার, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ এবং শপিং তোরণও রয়েছে।