বকেয়া ১৪ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের দাবি
ফার্নেস অয়েলভিত্তিক দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবি করেছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। রমজান, গরম ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আপাতত ৬০ শতাংশ পরিশোধের দাবি জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।
বৃহস্পতিবার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপা) নেতারা এ দাবি করেন।
বিপা সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত (ডেভিড হাসনাত) বলেন, দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় আমরা সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমরা নিবীড় সম্পর্ক রেখে কাজ করতে চাই। আমাদের সংগঠনের অধীন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি পাবে। গত ৮ মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। কারো কাছ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছি না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের চাপ ও ডলারের দাম বাড়ার কারণে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিআইপিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় (২০২৪ সালের জুনে) বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ছিল ৪ মাসের বিলের সমান। বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ এখন ৮ থেকে ১০ মাসে গিয়ে ঠেকেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে বকেয়া কমিয়ে ৩ মাসে নামিয়ে এনেছিল এরপর আর বিল দেয়নি। মাঝে মধ্যে ১০ দিন ১৫ দিনের করে বিল দিয়েছে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বকেয়া বিল ১৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বকেয়ার কারণে ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক কোম্পানি ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে পারছে না। আমরা যদি তেল আমদানি করতে না পারি তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কি করে। বিদেশি কোম্পানির বিল ঠিকই দেওয়া হয়েছে, অথচ আমরা দেশীয় উদ্যোক্তারা বকেয়া পাচ্ছি না। এটাকে চরম বৈষম্য বলা যেতে পারে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নতুন সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চাই। তবে সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে যদি সমন্বয় না হয়, তাহলে কতক্ষণ সম্ভব হবে! এক সময়তো ব্যাংকও আমাদের এলসি দিতে চাইবে না।
বিআইপিপির সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, জুলাইয়ের পর থেকে বিল পরিশোধ কমিয়ে দেওয়া হয়। বিল না দিয়ে উল্টো তারা জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা ইচ্ছেকৃতভাবে করা হয়েছে, যাতে নতুন সরকারের সময় লোডশেডিং নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। একই বিষয় নিয়ে বিদেশি ও দেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে।