হোম > জাতীয়

আসন্ন নির্বাচনে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে

দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিশ্রুতি ও পাহাড়ের দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের এবং সমতলের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

মঙ্গলবার রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে বক্তারা দেশের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী জনগণসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরো বেশী মনযোগী ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সরকার, আইন রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগুলোকে আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেখক ও সাংবাদিক জনাব আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা,দীপায়ন খীসা ও মেইনথিন প্রমিলা।

সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের দাবিগুলোর তুলে ধরা হয়। দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসনসহ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা; এবং সমতল ও পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী সকল ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা।

বক্তারা নির্বাচনপন্থী সকল রাজনৈতিক দলসমূহ ও আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ও দাবি করেন,

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এই চুক্তির দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করা, পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে,

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষমতায়ন করা, পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন'কে কার্যকরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উদ্ভাত্ত ও ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা, দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা

ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলেরর ক্ষুদ্র-নৃগেষ্ঠীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ ও আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।

মূল বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবদি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্খা ও ২০২৪ এর জুলাই অভ্যুাত্থান পরবর্তীতে যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যে অন্তর্ভুক্তিমুলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো সেটা এখনো অনিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে সেখানকার পাহাড়ি জনগন দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বসবাস করেন। সামরিক উপস্থিতি ও অনেক ক্ষেত্রে সেখানকার রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল না হওয়ার দরুণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবে তাঁরা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে না। এমনকি জনগণনার সময়ও প্রান্তিক অঞ্চলে থাকা আদিবাসীরা বাদ পড়ে থাকেন কেবলমাত্র ভৌগোলিক দুর্গমতার মধ্যে বসবাস করবার কারণে। ঠিক তেমনি জাতীয় নির্বাচনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে অনেক আদিবাসী জনগণ বাদ পড়ে থাকেন এই একই কারণে। ভোট কেন্দ্র থেকে বসবাসের স্থান দূরবর্তী হওয়ার কারণে তাঁরা স্বত:প্রণোদিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন না। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন জনপদের পাহাড়িরাদের যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌযান তাঁরাও প্রশাসনের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত থাকেন। কেননা প্রতিটি নির্বাচনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে ও পরের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহন ব্যতীত সকল ধরণের যোগাযোগের বাহন নিষিদ্ধ করা হয়। এতে কেবলমাত্র নৌযানের উপর নির্ভরশীল পাহাড়িরা ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত হন কিংবা নিরুৎসাহিত হন।

সংবাদ সম্মেলনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য সমস্যাটিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগী ভূমিকা দেখতে চাই।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ও সমতলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় হয়রানির শিকার হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য মোতাবেক অতীতের থেকে যদি এই নির্বাচন ভালো হয়, তাহলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভোট দিতে আসা পাহাড়িদের জন্য যাবতীয় সকল সুবিধা প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেশ বিদেশে অনেক সুনাম রয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে আসন্ন নির্বাচন স্বার্থক করার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূ্র্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানাই। আদিবাসীদের সমস্যাটিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগী ভূমিকা দেখতে চাই।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, আমাদের নির্বাচন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দলকে নিবন্ধিত করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এটা অবশ্যই রাখা উচিত ছিল। আমাদের দেশে আঞ্চলিক দলগুলোকে নির্বাচন করার জন্য সুযোগ দেওয়া হয় না। এই জায়গায় নির্বাচন নিবন্ধন আইনে পরিবর্তন হওয়া দরকার এবং এই ব্যাপারে পার্বত্য নেতৃবৃন্দের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু এই সুযোগটা নেই। সেই সুযোগটা দেওয়া উচিত।

জামায়াতের মহিলা সমাবেশ নিয়ে যা বললেন জাকসু এজিএস

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্বাচনে মোটরসাইকেল ৩ দিন, অন্যান্য যান ২৪ ঘণ্টা বন্ধের নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার আহ্বান সেনাপ্রধানের

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে মেলা বসলে আপত্তি নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

নির্বাচনের ফল কখন ঘোষণা হবে, জানালেন ইসি আনোয়ারুল

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই

তামাক নিয়ন্ত্রণ বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে: আলী রীয়াজ