নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলা আহত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছে ঢাকা।
শুক্রবার দুপুরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে হাতিয়া থেকে অ্যাম্বুল্যান্সযোগ পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন গামছাখালী এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা চিহ্নিত ক্যাডার আব্দুল হালিম আজাদ ওরপে পিচ্চি আজাদের অনুসারী। অভিযোগ রয়েছে যে, এই আজাদ ও তার দলবল বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম দ্বারা পুনর্বাসিত হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এই পিচ্চি আজাদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে যায় সে। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সম্প্রতি সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে বেরিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করতে থাকে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়- জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীজনেরা। তাদের অভিযোগ- যাদের অন্যায় অত্যাচারের কারণে হাতিয়া জনপদ কাঁপতো তাদেরকে জেলে না দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এর জেরে পিচ্ছি আজাদ নির্বাচনের দুদিন আগে এক সমাবেশে ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান বিশ্বাস’ কারীদেরকে রাজাকার বলে আখ্যা দেয়।
সাংবাদিক মিরাজ এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে এবং এর জন্য পিচ্চি আজাদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিচ্চি আজাদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী মিরাজকে একাধিকবার হুমকি দেয়। ফলে নির্বাচনের দিন সুযোগ বুঝে মিরাজের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে।
স্থানীয়রা জানায়- মিরাজকে রক্তাক্ত করার পরও তারা বেধড়ক পেটায়। এসময় কেন্দ্র ভোট দিতে আসায় নারীরা মানবঢাল তৈরি করে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মিরাজকে রক্ষা করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা আরও জানান- গতকাল চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শনে যান এনসিপির শাপলা কলির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ। এসময় ওই সন্ত্রাসীরা প্রথমে হান্নানের উপর হামলা করে। ওই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার কারণে মিরাজের উপর হামলা চালায় তারা। এসময় হান্নান দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করায় তার উপর হামলা করতে পারেনি সন্ত্রাসীরা।