জ্বালানি সংকট নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় ‘সাওদা সুমি’ নামে এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। এই গ্রেপ্তারকে 'ফ্যাসিবাদী সরকারের পূর্বাভাস' আখ্যা দিয়ে আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই ওই নারীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া সংসদের মুলতবি অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ দাঁড়িয়ে তিনি এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোপ প্রকাশ ও মুক্তির দাবি জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ে তার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, নাদিম নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার দেওয়ায় সাওদা সুমি নামে এক নারীক পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার স্ট্যাটাসে জ্বালানি তেলের বিষয় ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'ওপরের নির্দেশে' তাকে গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো— 'উপরের নির্দেশ' বলতে তারা কাকে বুঝিয়েছেন? আমি স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, আজকের অফিস টাইমের মধ্যেই ওই নারীকে মুক্তি দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ, এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। অথচ এই সরকার তো গণতান্ত্রিক সরকার, তাহলে মানুষ কি কথা বলতে পারবে না?
রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার রূপে গৃহীত হলো না। তবু যেহেতু আপনি বিষয়টি বলেছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আমি সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে সংসদে বসে বাইরের রাজপথের মতো আল্টিমেটাম দেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে আপনি প্রস্তাব আকারে নিয়ে আসবেন।
স্পিকার আরও বলেন, ফেসবুকে প্রতিদিন অনেকেই সরকারকে নিয়ে নানা মন্তব্য করে, সবকিছু আমলে নিলে সংসদ অন্য কাজ করতে পারবে না। তবু বিষয়টি যেহেতু বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, ‘আমরা তা খেয়াল করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।’
জানা গেছে, ভোলার বিবি সাওদা (৩৭) নামে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কর্মী ফেসবুকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছিলেন। গত ৫ এপ্রিল রাতে ভোলা সদর মডেল থানার অধীনে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে এবং জেলহাজতে আটক রাখার আদেশ চাওয়া হয়েছে।