ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের একটি বড় অংশ জামানত হারিয়েছেন। জামানত কী, কেন বাজেয়াপ্ত হয়, বাজেয়াপ্ত হলে কী হয়; তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।
জামানত কী
নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়াই হলো জামানত। টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়।
কেন জামানত বাজেয়াপ্ত হয়
একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে, তার শতকরা ১২.৫ শতাংশ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। এবারও একটি বড় সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তবে মোট কতজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সেই তথ্য এখনো জানা যায়নি।
বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদের ২৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা আগে জমা দিতে হয়।
পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ হাজার ৫০০ টাকা আর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এক হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয়।
জামানত বাজেয়াপ্ত হলে কী হয়
নির্বাচন শেষে কমিশন জামানত বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটা তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী বাতিল হওয়া জামানতের টাকা অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
অন্যদিকে যেসব প্রার্থী জামানত হারাননি, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জামানতের টাকা তারা তুলে নিতে পারেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হলে জামানত ফেরত পাওয়া যায়। যদি বাছাইয়ের সময় কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়, তবে তিনি তার জামানতের টাকা ফেরত পাবেন।
জামানত ফেরত পেতে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিস বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।
সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। না হলে ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে চলে যেতে পারে।