হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

স্নিগ্ধ শরতের কোমল প্রকৃতি

শারমিন নাহার ঝর্ণা

বর্ষার শেষে শরৎ আসে রানির সাজে। ভাদ্র-আশ্বিন দুই মাস মিলে শরৎকাল। শরৎকাল বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর স্নিগ্ধ ও মধুর ঋতু। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দূর অজানায় ভেসে যায় কী অপরূপ দৃশ্য দেখে মন ভরে যায়! নদীর পাড়ে সাদা কাশফুল শীতল হাওয়ায় দোলে, সাদা সাদা বকের সারি উড়ে বেড়ায় মনের সুখে।

গ্রীষ্ম ও বর্ষাঋতুর পরে প্রকৃতিতে শরৎরানি নিয়ে আসে স্বস্তির নিঃশ্বাস। বিকালের শীতল হওয়া জানান দেয় শীতের আভাস। এ সময় প্রকৃতি শান্ত ও কোমল হয় গাছের পাতা সজীব থাকে। গাঁয়ের মাঠে কচি কচি ধান ঢেউ খেলে শীতল বাতাসে। বাংলাদেশ অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি, চির শ্যামল সবুজের স্নিগ্ধ বিচিত্র সৌন্দর্য শুধু অপরূপী নয়, সবার মন হরণ করে।
তাই তো কবি গেয়ে উঠেছেনÑ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা, নীল আকাশে কে ভাসাল সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা।’
সবুজ অবারিত মাঠ সুনিল আকাশ হৃদয়কে আনন্দ দান করে, শরৎকালে কৃষকের মনে খুব আনন্দ থাকে, এ সময়ে গাঁয়ে শারদীয় মেলা হয়, হিন্দু বাঙালিদের কাছে এটা সবচেয়ে বড় উৎসব, ছোট ছেলেমেয়েরা মেলায় যায় খুব আনন্দ করে। নাগরদোলায় ওঠে বিভিন্ন ধরনের মাটির পুতুল কিনে খুশি হয়। শরৎকালে এই উৎসবমুখর পরিবেশ যেন ছোট-বড় সবাইকে ভীষণ আনন্দ দেয়।
নদীর পাড়ে কাশফুলের বনে কত লোকের সমাগম থাকে। শরৎকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো কাশফুল। শরতের আকাশজুড়ে নীলের মেলা, সাদা মেঘগুলো পেজা তুলোর মতো উড়ে বেড়ায় মনে হয় যেন দূর অজানায় ভেসে ভেসে দূরে হারিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় বিলের জলে শাপলা-পদ্ম ফুলের মেলা, অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ নৌকা ভ্রমণ করে বিলের স্বচ্ছ পানিতে, কেউ কেউ কলাগাছের ভেলা বানিয়ে বিলের জলে মাছ ধরে, এ সময় গাঁয়ের পথের দুধারে পাটকাঠি সাজানো থাকে আর মাঠভরা বর্ষার পানি আহা কি অপরূপ মন হরণ করা দৃশ্য প্রকৃতি যেন নববধূ রূপে সেজে ওঠে। এ সময় গ্রামে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে শিউলি, হিমঝুরি, বকুল, জুঁই, কামিনী, কাশফুল, দোলনচাঁপা, মল্লিকা ও মালতী।
প্রভাতে শিশির ভেজা শিউলি ফুল পড়ে থাকে গাছতলায়। এ সময় ছোটরা শিউলি ফুল কুড়িয়ে মালাগাঁথে মনের আনন্দে। শরতের সকালটা শিউলি ফুলে স্নিগ্ধতা বাড়ায়। সবুজ সবুজ দূর্বাঘাসে শিশিরবিন্দু লেপ্টে থাকে। শরতের সকালে শীতল হাওয়া বয়। শীতের একটু আভাস জানান দেয়। শরতের সকাল মিষ্টি রোদের পরশ বুলিয়ে দেয় গাছের পাতায়। বর্ষা শেষে শরৎ যেন প্রকৃতিতে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আসে।

শরৎকাল শান্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক সবার মনে এক অনাবিল শান্তি নিয়ে আসে। এ সময় পরিবারের সঙ্গে অনেকেই নদীর ধারে কাশফুল দেখতে এবং কাশফুলের সঙ্গে সেলফি তুলতে খুবই ভালোবাসে। এ সময় নদীর পানি খুব শান্ত-নির্মল থাকে। ছোট-বড় সবার মনে কাশফুল যেন আনন্দের প্রতীক। নদীর তীরে শরতের আকাশ ও নৌকা ভ্রমণ এক অনাবিল আনন্দ।
শরৎকালে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। যেমন : জলপাই, আমলকী, তাল, করমচা, চালতা ইত্যাদি। তাল দিয়ে আমাদের মা-চাচিরা এ সময় বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করেন। তালের বড়া সবার প্রিয় পিঠা। জলপাই দিয়ে অনেক ধরনের সুস্বাদু আচার বানানো হয় আর চালতার আচারও খেতে বেশ মজার।

সব মিলিয়ে শরৎকালটা যেন খুব আনন্দে উপভোগ করেন সবাই। বিকালের আকাশটা গাঢ় নীল থাকে, নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘগুলো ভেসে বেড়ায় দিক দিগন্তে। ঝাঁকে ঝাঁকে নাম না জানা কত পাখি উড়ে বেড়ায়। শরতের বিকালে নদীর পাড় খুব শান্ত থাকে। অনেকেই বিকালের অবসর সময়টুকু শরতের প্রকৃতি উপভোগ করেন। পরিশেষে এটাই বলা যায় রূপের রানি শরৎ এভাবেই বারবার ফিরে আসুক মোহনীয় রূপে। গাঁয়ের প্রকৃতি সেজে উঠুক অকৃত্রিম সৌন্দর্যে।

৫ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

ঢাকার বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’

বায়ুদূষণের শীর্ষে লাহোর, ঢাকা দ্বিতীয়

সাগরে লঘুচাপ, বৃষ্টির আভাস

আজ রাজধানীতে তাপমাত্রা কেমন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

ঢাকা-খুলনা-বরিশালে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

রমজানের বাকি সময় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই

রাজধানীতে বাড়তে পারে তাপমাত্রা