হোম > মতামত

সাংহাই সহযোগিতা সম্মেলন ও মোদির চাতুরী

গাজীউল হাসান খান

গাজীউল হাসান খান

পঞ্চাশ দশকের শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিকতা, পশ্চিমা কর্তৃত্ববাদ এবং একটি এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিয়ে তার পরিবর্তে একটি বহুকেন্দ্রিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র, নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার উদ্দেশ্যেই চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশন (এসসিও)। চীন, রাশিয়া, ভারতসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রায় দুই ডজন সদস্য দেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গত পহেলা সেপ্টেম্বর চীনের তিয়ানজিন নগরীতে এসসিওর দুদিনব্যাপী ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। বর্তমান একুশ শতকে বিশ্বব্যাপী বিরাজমান বিভিন্ন নৈরাজ্য, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ ও আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সম্মেলনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ব্রিকস যদি হয়ে থাকে একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, তবে এসসিও হচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় নিরাপত্তাবিষয়ক বহুমুখী সংগঠন। বৈশ্বিক দক্ষিণ কিংবা উন্নয়নশীল দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারসহ একটি সহনশীল প্রশাসনিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এমনকি উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অবিলম্বে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করাও এসসিওর মুখ্য উদ্দেশ্য বলে ঘোষণা করেছেন এসসিওর অন্যতম প্রধান নেতা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি তার উদ্বোধনী ভাষণে উল্লেখ করেছেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরাজমান সীমান্তবিরোধ নিষ্পত্তি করে সব উত্তেজনা নিরসন করার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যস্ততম আদান-প্রদানের কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সরবরাহ ও নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তাতে বিদেশি মুদ্রার প্রভাব এবং তাদের ক্ষমতার আধিপত্য কমবে বলে শুধু চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ অনেকেই তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। উন্নয়নকামী দেশগুলোর সে উদ্যোগকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিমা পরাশক্তিগতভাবে প্রভাবশালীরা অনেক প্রতিরোধ কিংবা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারেন। তবে সেগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর প্রয়োজন নিজেদের মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতা ও ঐক্য। এ ক্ষেত্রে জনৈক দার্শনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ‘বৃহত্তর মানবসমাজের কল্যাণ কিংবা অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তুমি উন্নত নীতি ও আদর্শের কথা তুলে ধরো, তাহলেই বিশ্ব সেগুলো অনুসরণ করবে।’

মাননীয় স্পিকার...

রমজানের ট্রিলিয়ন টাকার অর্থনীতি

ব্লু ইকোনমি : একুশ শতকের সম্ভাবনা

ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে

এবারের বিমর্ষ ঈদ

সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং মিডিয়ার নৈতিক সংকট

জুলাই সনদ : সমাধান সংসদে, নাকি আন্দোলনে

শক্তির রূপান্তর এবং সম্ভাব্য নতুন বিশ্বব্যবস্থা

মুসলিম বাংলাদেশের বাস্তবতা

মেটা কেন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে চাপ দিয়েছে