মানুষ সামাজিক জীব। একে অন্যের সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় জীবন হয়ে ওঠে মধুময়। আবার এ জীবনই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, যদি ঘটে সামাজিক অনাচার। আবার সামাজিক অনাচার তখনই ঘটে, যখন মূল্যবোধের অবক্ষয় লক্ষ করা যায়। বলা বাহুল্য, প্রতিটি সমাজেরই ভিন্ন ভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। নিউ ইয়র্কের রাস্তায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকার রাস্তায় নয়। মূল্য অর্থ দাম। আমরা যেকোনো বস্তুরই মূল্য নির্ধারণ করি। সেরূপ ভাবার্থে সমাজে প্রতিষ্ঠিত আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা ও নিয়মনীতির পৃথক পৃথক তাৎপর্য রয়েছে। এ রকম অসংখ্য বোধ বা ধারণা দ্বারা সমাজ প্রতিষ্ঠিত নয়। আর নৈতিক মূল্যবোধ ধর্ম, দর্শন, বিশ্বাস ও ব্যক্তির একান্ত উপলব্ধি উৎসারিত। নৈতিক মূল্যবোধই সামাজিক আচার-অনাচারকে প্রভাবিত করে। সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি ও শিক্ষা-সংস্কৃতির মাধ্যমে। সমাজে বসবাসরত মানুষের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, চাল-চলনের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে। কেতাবি ভাষায় বলা হয়, মূল্যবোধ হলো সেসব প্রথা, আচরণগত মান ও নীতিমালা-যেগুলো কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ থেকে প্রকাশিত হয়।
সমাজবিজ্ঞানী ডেভিড শাফার বলেন, ‘ভালোমন্দ, কাঙ্খিত-অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।’ আর একজন সমাজবিজ্ঞানী মেটা স্পেন্সার বলেন, ‘মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা সমাজে বিদ্যমান আচার-আচরণ, আহার-বিহার, সাজপোশাক ও লোকাচার থেকে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।’ অবশ্যই সমাজে মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ঠিক বিপরীতটিই হচ্ছে অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার ও অনাচার, যা সমাজ কোনোভাবেই গ্রহণ করে না। অনুমোদন করে না। একটি নির্দিষ্ট সমাজ ও তার জনগোষ্ঠীর নৃ-তত্ত্ব, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ভূগোলের নিরিখে সামাজিক মূল্যবোধ নির্ণীত হয়। জাতি-জাতীয়তার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধও পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হতে পারে। একটি দেশ তথা রাষ্ট্র তাদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয় আদর্শ ও কাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিতে পারে। একে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় জাতিগঠন প্রক্রিয়া (Nation Building Process)। এর বিপরীতটিও হতে পারে। উদ্দিষ্টবাদী রাষ্ট্রনায়করা তাদের ধ্যান-ধারণা, আদর্শ-উদ্দেশ্য ও তত্ত্ব-তথ্য দ্বারা নাগরিক সাধারণকে দীক্ষিত করতে চাইতে পারেন। একজন কিম জং উন একটি বিশেষ আদর্শ দ্বারা নাগরিক সাধারণকে গড়ে তোলেন। সোভিয়েত ব্যবস্থায় মার্কসবাদ রাষ্ট্রীয় সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূলমন্ত্র হিসেবে অনুসৃত হয়। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রকে ইসলামের নীতি ধারায় পরিচালিত করবেন, এটাই স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস, সমঝোতা ও সম্মতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হয়ে দাঁড়ায়। আশা করা হয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নাগরিকরা অনুসৃত নীতিবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র তার যাত্রা শুরুর পর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের আলোকে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী শাসকরা নাগরিক সাধারণকে ন্যায়নীতির ভিত্তিতে গড়ে তোলার পরিবর্তে অন্যায় ও অনাচারের ভিত্তিতে গড়ে তোলেন। ১৯৭১-৭৫ পর্যন্ত সময়ে সমাজে একশ্রেণির লোভী, লুটেরা ও সহিংস প্রজাতির সৃষ্টি করে। একই দল যখন ২০০৯ সালের পর একটি দীর্ঘমেয়াদিকালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, তখন অনাচারকেই আচার হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যায়-অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হাইজ্যাক নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। লাল, নীল, সবুজ বাহিনীর দখল, লুটপাট ও অপকর্মে ভরে যায় দেশ। সরকার তথা রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিকারের বদলে এসব অন্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেওয়া হয়। একজন আওয়ামী নেতার লোকরা যখন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেন, তখন শীর্ষ নেতৃত্ব তার বিচার না করে অবিচার করে। সময় বদলালেও চরিত্র বদলায় না তাদের। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তাদের দ্বারা নীতিনৈতিকতার চরম অবমাননা ঘটে। দুর্নীতিই তাদের নীতি হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকাশ্যে খুন, গুম, হত্যা, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও ধর্ষণ করার পরও অপরাধীরা সরকারি আশকারা পায়। কারণ, তারা আওয়ামী ক্যাডার। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোকে নিপীড়ন, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য গড়ে তোলে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের দ্বারা নারী সহিংসতার ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেঞ্চুরির মতো ন্যক্কারজনক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণকারীরা তিরস্কৃত না হয়ে পুরস্কৃত হয়। সেঞ্চুরির দাবিদার সে সময় সরকারি সহায়তায় বিদেশে পালিয়ে যায়। ১৫ বছর ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আওয়ামী ক্যাডারদের দুর্বিনীত করে তোলে। অবশেষে হাসিনা স্বৈরাচারের পাপের ফসল হিসেবে তাদের পালিয়ে যেতে হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের হাজারো কারণের মধ্যে সামাজিক অনাচার মানুষকে ক্রুদ্ধ করে তোলে। নাগরিক সাধারণের জীবন, সম্মান ও সম্পদ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে নিরাপদ ছিল না। বাংলাদেশের আপামর ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে সামাজিক অনাচারের বিপরীতে একটি নৈতিক সমাজ নির্মাণের শপথ ঘোষণা করে। তারা শুধু চাকরির বৈষম্যের বিরুদ্ধেই কথা বলেনি, বরং নারীবৈষম্যের মতো মৌলিক বিষয়ও তাদের প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে কারণে বিপ্লবোত্তর সমাজে নীতিনৈতিকতার প্রতিচ্ছায়া দৃশ্যমান হওয়ার কথা। বিশেষত, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নারী নেতৃত্বের প্রাধান্যশীল ভূমিকার কারণে এ সময় তাদের সম্মান ও মর্যাদা শীর্ষে থাকার কথা। কিন্তু ‘কী দেখার কথা কী দেখছি? কী শোনার কথা কী শুনছি?’ কী ভাবার কথা কী ভাবছি? কী বলার কথা কী বলছি?’ গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি মানুষের বিবেককে বিচলিত করেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা সীমালঙ্ঘন করেছে। যদি শুধু একটি দিনের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন লক্ষ করা যায়, তাহলে দেখা যায় ধর্ষণের ঘটনা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রথম পৃষ্ঠা পূর্ণ।
আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর এই সমাজচিত্র দুর্ভাগ্যজনক। সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই তরুণীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। পোশাক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে হেনস্তা করা হয়েছে। অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় বাকেরগঞ্জে এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মাওনায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় গ্রেপ্তার দুই। টঙ্গীতে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবি। লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে বাড়িতে ঢেকে এনে অপবাদ দেওয়া হয়। অবশেষে কিশোরী আত্মহত্যা করে। এসব ঘটনা নিঃসন্দেহে সমাজের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছে। সংগতভাবেই প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জুলাই আন্দোলনের মতোই রাতে হাজির হয়েছেন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। সেদিনের মতোই উচ্চকিত ছিল তাদের স্লোগান-তুমি কে আমি কে আসিয়া আসিয়া, খুন-ধর্ষণ-নিপীড়ন রুখে দাও জনগণ। অবিলম্বে ধর্ষকদের বিচার করো করতে হবে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান তথা বিপ্লবের পর নারীর অবস্থান ও সম্মান যখন বেড়েছে, তখন এ ধরনের ঘটনার প্রকোপ অবশ্যই বিশেষ সামাজিক অবস্থানের নির্দেশ দেয়। সমাজতাত্ত্বিকরা দুটো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
প্রথমত, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি তাদের অবাধ গতিও বেড়েছে। সে গতি এত দ্রুতগতিতে বেড়েছে, প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ তা ধারণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে বিপ্লবোত্তর সমাজে স্বাধীনতা বেড়েছে। জনগণের যুব অংশ একে অবাধ স্বাধীনতা মনে করছে। বাংলাদেশের সমাজ যে মাত্রায় ও গতিতে স্বাধীনতা বোঝে, সে মাত্রায় নিয়ম, কানুন ও শৃঙ্খলা বোঝে না। স্বাধীনতা মানেই তারা বোঝে অবাধ স্বাধীনতা। সমাজে ইতোমধ্যে মারাত্মক অবক্ষয় ঘটেছে। বলতে গেলে মূল্যবোধের অবসান ঘটেছে। পিতৃত্বসুলভ যে মমত্ব আমাদের শিশু-কিশোর-যুবাদের নিয়ন্ত্রণরেখা, তা ইতোমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। সরকার নির্বিকার না হলেও পুলিশ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা একটি বড় কারণ। এ ছাড়া আওয়ামী স্বেচ্ছাচার আমলে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা যুবদের একাংশের মনে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি করেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ সময় ধর্ষণের অপরাধীরাও জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে যেভাবে দেখা উচিত, সেভাবে প্রশাসন দেখছে না। নারী নেতৃত্ব অভিযোগ করছে যে, নারী নির্যাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
নারী নির্যাতনের মতো বিষয়টি আপাতত নয়, আপেক্ষিকও নয়। সমাজের গহিন গভীরে এর কারণ নিহিত। নারী-পুরুষের চিরায়ত সম্পর্কের বিষয়টি ইতিহাসের মতোই পুরোনো। মানুষ চরিত্রের প্রথম যে অনিষ্টের কথা বলা হয়, তার নাম হচ্ছে ‘কাম’-নারী-পুরুষের মেলামেশা। সব সময়ই সবকালে যেমন কিছু মানুষ এ ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছে, তেমনি সমাজ মানুষের এই অনাচারকে শৃঙ্খলিত করতে চেয়েছে। অদম্য এই ইচ্ছাকে অবদমিত করার জন্য সামাজিক বন্ধনের সন্ধান দিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর সংসার। এভাবে স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ের সংসার সমাদৃত হয়েছে পৃথিবীর সর্বত্র। পাশ্চাত্য আধুনিকতার নামে, অবাধ স্বাধীনতার নামে ধ্বংস করেছে পরিবারকে। প্রাচ্যে তথা বাংলাদেশের মতো সমাজে আজও পরিবার টিকে আছে। পাশ্চাত্যের প্রভাব ক্রমাগত ছোবল হানছে আমাদের পবিত্র পরিবারে। তসলিমা নাসরিনের মতো নারীরা আমাদের পবিত্র সম্পর্ককে অপবিত্র করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। লজ্জার আবরণে ঢাকা আমাদের সমাজকে নির্লজ্জ করছে তারা।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সমাজ একটি মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তাই সতত স্বাভাবিকভাবে ইসলামি সংস্কৃতি বাংলাদেশের সামাজিক ভিত্তি। বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী-পুরুষ পর্দার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কেউ পর্দা করুক বা না করুক, অন্তত পর্দার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিপরীত সংস্কৃতির লোকরা মনে করে, বাংলাদেশে পর্দানশিন নারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাদের কাছে নারী প্রগতির জন্য এটা এক হুমকি। অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, ধর্ম কখনোই অন্ধত্বের কথা বলে না। আলোর কথা বলে। সহিষ্ণুতার কথা বলে। যে নারী রোজার দিনে প্রকাশ্যে সিগারেট পান করে, সে নিশ্চয়ই ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করে। যে নারী উদ্ভট-উৎকট পোশাকের জন্য প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়, সে নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক আচরণ করে। মার্কসবাদও অশালীন, অশ্লীলতা সমর্থন করে না। সুতরাং কোনো ক্ষেত্রেই কোনোভাবেই কোনোদিকের উগ্রতাই কাম্য নয়। মধ্যপন্থাই উত্তম।
নারীর প্রতি অনাচার ও সহিংসতা রোধ করতে হলে আমাদের-ক. সমাজে নৈতিক পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে, খ. আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, গ. সমাজে সহনশীলতার অনুশীলন করতে হবে, ঘ. নারীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে, ঙ. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় সামাজিক অনাচার রোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখন যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের প্রয়াস পুরোদমে চলছে, সেখানে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে রাষ্ট্র এবং সমাজে নৈতিকতার বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে।