মৌলবাদের অভয়ারণ্য
অনেকেই আমাকে তারেক রহমানের উচ্চারিত মৌলবাদ শব্দটি নিয়ে কিছু লেখার অনুরোধ করেছেন। আমাকে যদি একবাক্যে বলতে হয়, তবে বলব, তারেক রহমান যদি বিএনপিকে আগের আদর্শে রাখতে চান, তবে তার এই উচ্চারণটি পলিটিক্যালি কারেক্ট হয়নি! কিন্তু তিনি যদি তার দলকে সেক্যুলারিজমের দিকে টানতে চান, তবে এটি রাজনৈতিকভাবে সঠিক বা শুদ্ধ হয়েছে।
আশা করব, এই উচ্চারণের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তিনি বা তার উপদেষ্টা পরিষদ সঠিকভাবেই গণনা করেছেন। অর্থাৎ এর রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের কাজটি যথাযথভাবেই করেছেন! আসলে রাজনীতিতে ভুল বলে কোনো শব্দ নেই, সঠিক ভাবটি হলোÑরাজনৈতিকভাবে সঠিক (Politically correct) অথবা বেঠিক (Politically incorrect).
মরহুম তৈলুর রহমান বলে গেছেন, আমার নেত্রী ভুল করতে পারে না! তৈলুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে একঝাঁক তৈলুর সন্তান পরে শেখ হাসিনার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। আশা করব, জনাব রহমান এ রকম কোনো বৃত্তে নিজেকে আবদ্ধ হতে দেবেন না! একজন মানুষ হিসেবে তিনিও ভুল করতে পারেন, ভুল বলতে পারেন। তিনি যদি শুধু মধুর মধুর উপদেশ শোনেন, তাহলে নিজের সর্বনাশটিই টেনে আনবেন। এই কিসিমের উপদেশ টপ নেতৃত্বের কোনো কাজে আসে না। ওনার নিজের ইচ্ছাটিই কথিত উপদেষ্টারা পরিবেশন করেন। সেটিই খাঁটি পরামর্শ, যা তিতা লাগে এবং বিবেকের দ্বারে কুঠারাঘাত করে।
এটি আসলেই ওনার সুচিন্তিত উচ্চারণ, নাকি ক্ষণিকের বিভ্রম, তা মালুম করা যাচ্ছে না। আজ যখন তারেক রহমান নিজেই ‘মৌলবাদ’ শব্দ ব্যবহার করেন, তখন বিএনপি ও ইসলামপন্থি শক্তির ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। জনগণ ভাবতে শুরু করে—বিএনপি কি আওয়ামী লীগের পুরোনো কৌশলই অনুসরণ করছে? নাকি পশ্চিমা শক্তিকে খুশি করার জন্য এই ভাষা বেছে নেওয়া হচ্ছে? বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো একই পরিভাষা ব্যবহার করে, তবে তাদের স্বাতন্ত্র্য কোথায়?
এই শব্দ পশ্চিমা দুনিয়ার তৈরি একটি অপমানসূচক লেবেল, যা পুরো মুসলিমসমাজকে হেয় করে। বিএনপির অতীত নেতৃত্ব (খন্দকার মোশাররফ, মির্জা আব্বাস প্রমুখ) এই শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ছিলেন। অথচ এখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মুখেই যখন একই শব্দ শোনা যায়, তখন মানুষ ভেতরে ভেতরে হতাশ হয়।
আপনাদের হয়তোবা স্মরণে আছে, ২০০৮ সালের নভেম্বরে, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, Harvard International Review-এ ‘Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh’ শিরোনামে একটি বহুল আলোচিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল! এটি লিখেছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও একজন ইহুদি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তা । ভদ্রলোকের নাম Carl J. Ciovacco :
প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ইসলামপন্থি প্রভাব দ্রুত বাড়ছে এবং দেশের সেনাবাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত মৌলবাদী হয়ে পড়ছে!
শুধু হাসপাতাল আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নহে, আবুল বারকাতরা মৌলবাদী অর্থনীতিও আবিষ্কার করে ফেললেন এবং তারই দোহাই দিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করে ফেলা হলো।
কাজেই যারা ভাবছেন, মৌলবাদী গালিটি শুধু পলিটিক্যাল ইসলামের অনুসারীদের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছেÑএ ধারণাটিও একটি মারাত্মক ভ্রম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে!
মৌলবাদ আসলেই কী জিনিস?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ‘মৌলবাদ’ শব্দটি বহুদিন ধরে আলোচিত হলেও এর ব্যবহার প্রায়ই বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইংরেজি Fundamentalism শব্দটির বাংলা রূপ হলো ‘মৌলবাদ’। কিন্তু এর উৎপত্তি ইসলামি সমাজে নয়; বরং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বের এক বিশেষ প্রবণতায়। উত্তর আমেরিকায় যারা বাইবেলকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করতে চাইতেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার কঠোর প্রয়োগের দাবি তুলেছিলেন, তারাই পরিচিত হন fundamentalist হিসেবে।
পরে পশ্চিমা বুদ্ধিজীবী ও নীতিনির্ধারকরা শব্দটির প্রয়োগ ইসলামি সমাজ ও বিশেষ করে ইসলামি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রসারিত করেন। এর ফলে ‘Fundamentalism’ ধীরে ধীরে একটি নেতিবাচক তকমায় পরিণত হয়, যা ইসলামি জীবনব্যবস্থাকে হেয়প্রতিপন্ন ও ‘অন্যীকরণ’ (Othering) করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
এডওয়ার্ড সাঈদের Orientalism ধারণা এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সাঈদ দেখিয়েছেন কীভাবে পশ্চিমা একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রাচ্যকে একটি স্থির, অনুন্নত, হুমকিস্বরূপ ও ‘অন্য’ রূপে নির্মাণ করা হয়। ইসলামি প্রেক্ষাপটে ‘Fundamentalism’ শব্দের একচেটিয়া ব্যবহার সেই ‘অরিয়েন্টালিস্ট’ মানসিকতার সম্প্রসারণ ছাড়া কিছু নহে।
সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়, ‘ফান্ডামেন্টালিজম’ একটি সর্বজনীন প্রবণতা, যা প্রতিটি ধর্মের ক্ষেত্রেই কমবেশি বিদ্যমান। খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু কিংবা বৌদ্ধসমাজেও অনুরূপ প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একচেটিয়াভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই বিশেষণটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ। এর ফলে একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড (double standard) তৈরি হয়, যেখানে একই ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি কঠোর আনুগত্য এক প্রেক্ষাপটে ‘ধর্মনিষ্ঠা’ হিসেবে গৃহীত হলেও ইসলামি প্রেক্ষাপটে সেটিকে ‘মৌলবাদ’ আখ্যা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও ‘মৌলবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় দ্ব্যর্থকভাবে। একদিকে এটি ইসলামি রাজনৈতিক দল ও সমাজভিত্তিক আন্দোলনকে সীমাবদ্ধ ও সন্দেহজনক হিসেবে উপস্থাপন করে; অন্যদিকে চরমপন্থি এবং সহিংস গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও একই শব্দকে যুক্ত করে। ফলে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সব প্রবণতাকেই এক ঝুঁকিপূর্ণ ও নেতিবাচক ফ্রেমে বন্দি করা হয়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ‘মৌলবাদ’ শব্দটির বর্তমান ব্যবহার কোনো নির্দোষ বা নির্মোহ বিশ্লেষণ নয়; বরং পশ্চিমা রাজনৈতিক বর্ণনার দ্বারা প্রভাবিত একটি ধারণা, যা ইসলামের সামগ্রিক জীবনব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
এখানে এরা আবার একটি চালাকির আশ্রয় নেয়। মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করার জন্য মৌলবাদী মুসলিম (প্র্যাকটিসিং মুসলিম) এবং উদার বা অমৌলবাদী মুসলিমÑএই দুভাগে ভাগ করে ফেলে! এদের মধ্যে খেলাফত বা রাজনৈতিক ধারা অনুসারীদের পলিটিক্যাল ইসলাম হিসেবে আলাদা করে ফেলে এবং মৌলবাদের অপবাদটুকু শেষমেষ এদের ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু একটু গভীরে ঢুকলে বুঝবেন যে এরা প্রত্যেক প্র্যাকটিসিং মুসলিম এমনকি তাবলিগ জামাতের অনুসারীদেরও মৌলবাদী বলে গণ্য করে। ওদের ভাষায় রাজনৈতিক ইসলামকে এরা যতটুকু ভয় না পায়, সামাজিক ইসলামকে এরা আরো বেশি ভয় পায়। কারণ পশ্চিমা বিশ্বে সবচেয়ে বর্ধনশীল ধর্ম এখন ইসলাম। যে ইসলামের প্রসারকে স্তব্ধ করতে ৯/১১ সৃষ্টি করা হলোÑসেই ৯/১১-এর পর এই বৃদ্ধি আরো বেড়ে গেছে!
ইত্যবসরে মুসলিম বিশ্বেও এক নীরব কিন্তু গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের পর্দার বিধানকে বিদ্রুপ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটাকেও মৌলবাদের ফসল বলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই আঘাত মুসলমানদের দুর্বল করে দেয়নি, বরং তাদের আত্মপরিচয়ের শেকড়ের দিকে আরো দৃঢ়ভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে মুসলিম নারীরা এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা সমাজ ভেবেছিল, পর্দা ও হিজাব মুসলিম নারীদের অগ্রযাত্রায় অন্তরায় হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, ঠিক উল্টো। শিক্ষিত মুসলিম তরুণীরা দৃঢ় ও স্পষ্ট কণ্ঠে ঘোষণা করলÑ‘আমরা হিজাব দিয়ে মাথা ঢেকেছি, কিন্তু আমাদের মগজকে নয়।’
পরিবর্তনের এই ঢেউটুকু আমাদের দেশেও ভালোভাবে অনুভূত হচ্ছে! যে নানি-দাদিরা ষাট ও সত্তরের দশকে অত্যাধুনিক ও সাহসী পোশাক পরিধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চষে বেড়িয়েছেন, আজ তাদেরই নাতনিরা হিজাব পরিধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, স্বল্প-বসনা নানি-দাদির চেয়ে অধিক-বসনা নাতনিদের কনফিডেন্স ও স্বাচ্ছন্দ্য লেবেলে কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না! এই পরিবর্তনটি প্রশাসনিক বা রাষ্ট্রীয় কোনো নির্দেশে হয়নি।
‘পাছে লোকে রাজাকার বলে’ এই ভয়ে আগের প্রজন্মের আমরা অনেক সময় সত্য কথা বলতে ভয় পেতাম। নতুন এই প্রজন্ম মতিয়া চৌধুরীর ভ্যাংচানির জবাবে বলেছে, হ্যাঁ, আমি রাজাকার! ছেলেটির বুকে সাঁটানো সেই স্লোগানটি আমাদের ইতিহাসে আইকনিক হয়ে থাকবে। ছেলেটির শরীরে জাফর ইকবাল গড়গড় করে বমি করে দিতে চেয়েছিলেন! জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার কথার জবাবে দেশের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান দিয়েছে, তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার... । অর্থাৎ তারা বুঝিয়ে দিয়েছেÑএ রকম কোনো ট্যাগ মেরে জেন-জি প্রজন্মকে থামানো যাবে না! ভবিষ্যতে যদি কেউ নিজের অপশাসন বা কুশাসন ঢাকতে একই ধরনের অন্য কোনো ট্যাগ মারতে চায়, তবে নতুন প্রজন্ম একইভাবে গর্জে উঠবে। কাজেই, সাধু সাবধান!
তথাকথিত মৌলবাদের এই হুমকি কতটুকু বাস্তব?
সামাজিক ইসলাম (যেমন তাবলিগ জামায়াত কিংবা হেফাজতে ইসলাম) এবং রাজনৈতিক ইসলাম (যেমন জামায়াতে ইসলামী)Ñএ দুই ধারাকে যখন ‘মৌলবাদ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়, তখন সেটি আসলে তাদের জন্য একধরনের স্বীকৃতি বা এন্ডোর্সমেন্ট হিসেবেই কাজ করে। এ দুই ধারার অনুসারীদের সঙ্গে কথা বললে দেখা যায়, অনেকে গর্বের সঙ্গে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মৌলবাদী । কারণ তারা মনে করেন তারা ইসলামের মূল আঁকড়ে আছেন। পশ্চিমা বিশ্বও একধরনের সন্দেহ ও অস্বস্তি নিয়ে (Uneasy acceptance) তথাকথিত এই ‘মৌলবাদ’কে মেনে নিয়েছে।
কিন্তু ২০০৪ সালের দিকে জেএমবি নামের সংগঠন দেশের নানা স্থানে বিচারকদের ওপর হামলা শুরু করে। তাদের যুক্তি ছিল—আল্লাহর আইন মেনে যারা বিচার করে না, তারা কাফের আর কাফেরদের হত্যা করা ওয়াজিব। বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপটে বলা কোনো বক্তব্যকে তুলে এনে সুবিধাজনক জায়গায় ব্যবহার করা কতটুকু ভয়ংকর হতে পারে, ওপরের ঘটনাটি তার প্রমাণ।
জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ আবদুর রহমান শুধু মির্জা আজমেরই দুলাভাই ছিলেন না, বরং আওয়ামী লীগ নামক দলটিরও পরমাত্মীয় ছিলেন। আজ পরিষ্কার, জেএমবির পেছনে আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রভু ভারতই ছিল। বিখ্যাত সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে যে ইন্ডিয়ার টাকা ও পরামর্শের থলের (The bags of Indian cash and advice) কথা উল্লেখ করেছিলÑএই জেএমবি প্রজেক্ট ছিল তার অন্যতম। মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও নিজেদের ইসলামের মূল অনুসারী ভাবত, তাই তারাও নিজেদের মৌলবাদী মনে করত—যদিও তারা আসলে বিভ্রান্ত অনুসারী ছিল।
একই কৌশলে ইসরাইল গড়ে তুলেছে আইএসআই এবং আমেরিকা গড়েছিল আল-কায়েদার মতো সংগঠন। বদনাম হয়েছে ইসলামের, বদনাম হয়েছে মুসলমানদের কিন্তু লাভ হয়েছে আমেরিকার, লাভ হয়েছে ইসরাইলের, লাভ হয়েছে ইন্ডিয়ার! কিন্তু এসব লাভ ক্ষণস্থায়ী! দীর্ঘ মেয়াদে এরা সবাই লুজার হিসেবেই গণ্য হবে।
বাইরের কোনো শক্তিকে তোয়াজ করার দরকার নেই। তোয়াজ করুন, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালাকে। সেই আল্লাহতালার বড়ত্ব ঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলে এই দুনিয়ার রাজা-মহারাজাদের একটি মশার চেয়ে বড় বলে মনে হবে না।
বিএনপি বলয়ের শ্রদ্ধেয় এক বড় ভাই, যার অ্যাপিয়ারেন্স বর্তমানে শতভাগ ‘মৌলবাদী’, রক্তের সম্পর্কেই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত, কাজেই বিএনপির সঙ্গে একটা নিবিড় সম্পর্ক না রেখে পারেন না। তিনি একটা কথা বলেন, আমরা পরকালের কথা তো স্মরণ করিই নাÑ১/১১-কেও স্মরণ করি না। ৫ আগস্টের কথাও ভুলে যাই। বড় ভাইটির এই কথাগুলো খুবই প্রণিধানযোগ্য!
যে আল্লাহ ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির একেকটিকে ঘণ্টায় ২ মিলিয়ন কিলোমিটার বেগে ঘোরাচ্ছেন, সেই আল্লাহতায়ালাই ইসলামোফোবিকদের এসব কুটনামোর দিকে এবং তাদের মানসপুত্র হিসেবে দেশীয় বান্দর-বান্দরিদের বাদরামোর দিকেও একটি নজর রাখছেন । তিনি ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না।
সেই আল্লাহতায়ালার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসটি সংবিধানে যুক্ত করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান! ফান্ডামেন্টালিজমের আদি সংজ্ঞানুসারেই এটি একটি নির্ভেজাল ‘মৌলবাদী’ পদক্ষেপ! এটি বাস্তবায়ন করতে তিনি কারো কোরো পরামর্শ বা রক্তচক্ষুকে বরদাশত করেননি! তাতে কে তাকে মৌলবাদী বলবেন আর কে অমৌলবাদী বলবেন, সেটিরও পরোয়া করেননি। তারই মদতে ভাসানীর কণ্ঠের ‘খামোশ’ শব্দটি বজ্র-নিনাদের মতো লেগেছে!
সেই বাবার সন্তান হিসেবে তারেক রহমান সেই পথেই হাঁটবেনÑজাতির প্রত্যাশাটাও তাই!