হোম > রাজনীতি

ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতিকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থীর বোনের

শাপলার গণহত্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য

আতিকুর রহমান নগরী

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও শহীদ রেহানের বোন ফারিয়া সরোনি ভাশা

রাজধানীর মতিঝিলে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে ‘ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’ আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ রেহান আহসানের বোন ফারিয়া সরোনি ভাশা। ক্ষমা না চাইলে মাহিরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শহীদ রেহানের বোন।

পোস্টে শহীদ রেহানের বোন বলেন—‘ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে—আপনার সেই ঘৃণিত, সাম্প্রদায়িক ও শাপলার শহীদদের প্রতি দেয়া অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য।
তিনি বলেন—‘আমরা আপনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি—এটা আর শেখ পরিবারের বাংলাদেশ নয়।এটা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ। যেখানে শহীদদের রক্তের অপমান মেনে নেওয়া হয় না এবং যেখানে ধর্ম, বিশ্বাস, কিংবা পোশাক দেখে শহীদের মর্যাদা নির্ধারিত হয় না। Loud and Clear!’

আরেক পোস্টে শহীদ রেহানের বোন বলেন—মাহিরকে তার বক্তব্যের জন্য পাবলিকলি ক্ষমা চাইতেই হবে। না হলে, শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় আমি ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

এর আগে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া মাহিরের একটি মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক প্রশ্নের জবাবে মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, শাহবাগ আন্দোলন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে। সেই দাবিতেই আন্দোলন হয়েছে এবং বিচারও কিছু অংশে সম্পন্ন হয়েছে। যারা বলছে এই আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে, তাদের প্রশ্ন করুন—হেফাজতের ওপর ভর দিয়ে শাপলা চত্বরে হামলা চালিয়ে, ৫ মে ঢাকা শহরে তাণ্ডব চালিয়ে কারা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়েছে?

এরপর ‘শাপলা চত্বর কি ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ছিল’—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘অবশ্যই।’

তার এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও সহমর্মী গোষ্ঠীগুলো বিষয়টিকে শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, মাহিরের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক মনোভাব উসকে দিতে পারে এবং ৫ মের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে।

বিতর্কিত এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শহীদ বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রেহান আহসানের বোন ফারিয়া স্মরণী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন মাহিরকে।

প্রসঙ্গত, ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও নারীনীতির বিরোধিতাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হাজার হাজার কওমি আলেম শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মুসলমান মহাসমাবেশে অংশ নেন।

সেদিন রাত গভীর হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দেয় তাদের। অভিযানে ব্যাপক গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। হেফাজতে ইসলামের দাবি, ওইদিন অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩ জনের নামও প্রকাশ করে সংগঠনটি।

জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে মুক্ত গণমাধ্যমের বিকল্প নেই

নেতৃত্বে গিয়ে ভুল করলে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না

কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে এমনটি আর চলবে না

৫ মে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হেফাজতে ইসলাম

রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে তফসিলি-দলিতদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: আখতার

জুলাই সনদ ও গণভোট পৃথক করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সরকার

দ্বীন বিজয়ী করতে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে: অ্যাডভোকেট জুবায়ের

এনসিপির জাতীয় কনভেনশন রোববার

স্বপ্নের নগরী প্রতিষ্ঠায় জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করুন

আমি নির্বাচিত হলে ময়লার বিল দিতে হবে না: আসিফ মাহমুদ