আট দিনে আট নেতার পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন ডা. তাসনিম জারার স্বামী ও দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। গত আট দিনে জারার স্বামীসহ দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন মোট আট নেতা।
বুধবার রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন খালেদ সাইফুল্লাহ। এর একদিন পর এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীনসহ দল থেকে পদত্যাগ করেন খালেদ।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের খবর বের হওয়ার পর থেকেই এনসিপির একটি অংশ এর বিরোধিতা করছিল। জোটের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর স্মারকলিপি দেন। সেই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন মুশফিক ও মুরসালীন।
এ ছাড়া ২৫ ডিসেম্বর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় বৈঠকে অংশ নেন ছয় নেত্রী। তারা হলেন- জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা। বৈঠকে তারা প্রায় চূড়ান্ত হওয়া জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানান।
এ পদত্যাগের ধারা শুরু হয় তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনে। তাকে সমর্থন জানিয়ে সেদিন পদত্যাগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। এর দুইদিন পর পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র নির্বাচনের। পরদিন পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। এমনকি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা পদত্যাগ করেন।
তারা হলেন–দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী। ৩১ ডিসেম্বর রাতে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগ পাঠিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।