বিএনপির বর্ধিত সভা কাল
জাতীয় না স্থানীয় নির্বাচন আগে, পূর্ণ না প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন- প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আলোচনার মধ্যে আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হচ্ছে বিএনপির বর্ধিত সভা।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম আয়োজিত বর্ধিত সভায় এসব ইস্যুতে তৃণমূল থেকে একেবারে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শোনার পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কী বার্তা দেবেন তিনিÑ এমন প্রশ্নে বিএনপির নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ধিত সভায় তারেক রহমানের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিএনপি ও তার সঙ্গে থাকা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচন আগে চায়। তবে জামায়াতসহ আরো বেশ কয়েকটি দল পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি তুলেছে। দলগুলোর এই দাবির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশও রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বিএনপি কীভাবে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করবেÑ এই কৌশলের কথা বলবেন তারেক রহমান।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার দেশকে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন পর বর্ধিত সভার মতো দলের একটি জাতীয় সভা হতে চলেছে। এই সভায় সাংগঠনিক বিষয়াদি আলোচনা হবে। এ ছাড়া আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
তিনি কী ধরনের বার্তা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বার্তা দেওয়ার পরই তো বোঝা যাবে তিনি কী বলতে চান। তবে তিনি তার বক্তব্যে রাজনৈতিক একটি বার্তা দেবেন।
বর্ধিত সভা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বর্ধিত সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন, নেতাকর্মীদের তার বার্তা দেবেন, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করবে, যা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে লুটপাট করেছে, অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুন করেছে, রাজনীতি করেছে, তাদের সেই দুঃশাসনের কারণে দেশে এখনো অস্থিরতা চলছে।
এ ছাড়া বর্ধিত সভায় আগামীদিনের করণীয় কী, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কী ধরনের হতে পারে সেটা নিয়ে তারেক রহমান আলোচনা করবেন বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন, সম্ভাব্য দেশের পরিস্থিতি, করণীয়, কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের মতামত শুনতে আগ্রহী বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপরই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনি বৈতরণী পার করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপি দপ্তর এরই মধ্যে জানিয়েছে, বর্ধিত সভাটি হবে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলসহ তৎসংলগ্ন মাঠে। এরই মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলডি হল সংলগ্ন মাঠে সার্বিক প্রস্তুতি দেখভাল করছেন।
জানা গেছে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠি বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণকারী নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভা রাজধানীর পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের আওতাধীন এলডি হলসহ মাঠে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণকারীরা এরই মধ্যে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহ করছেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী জানান, আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বিএনপির বর্ধিত সভায় সারাদেশের তৃণমূলের, বিশেষ করে থানা, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হবেন। সাড়ে তিন থেকে চার হাজারের মতো নেতাকর্মী বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকবেন।
তিনি জানান, বর্ধিত সভা রাত পর্যন্ত চলবে। আগত নেতাকর্মীদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাশতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিএনপি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দলের বর্ধিত সভায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সব কর্মকর্তা ও সদস্য, মহানগর ও জেলার সব থানা, উপজেলা, পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা থাকবেন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য যারা দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং মনোনয়নের জন্য প্রাথমিক চিঠি পেয়েছিলেন, তারাও বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকবেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বর্ধিত সভাটি হয়েছিল রাজধানীর ‘লা মেরিডিয়ান’ হোটেলের মিলনায়তনে।