ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীকে ‘নীতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) বলেছে, দেশে চলমান সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। গণপ্রতিরোধের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আদায় সম্ভব। জনগণকে সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণকারী দলগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জেডিপি আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী—উভয়পক্ষের সংস্কারবিরোধী প্রবণতা দেশের জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’। মীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে জ্বালানি সংকট ও কৃষি খাতের সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনদৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে হকার উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে গণপ্রতিরোধের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আদায় সম্ভব উল্লেখ করে জেডিপি আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি-জামায়াত ভোটের রাজনীতিতে সংস্কারের পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তারা নীতিগতভাবে সংস্কারপন্থি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি, কৃষি ও হকার উচ্ছেদ ইস্যুতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম হচ্ছে। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশ আছে কিনা, তা তদন্ত করতে হবে। ডিজেল সংকট অব্যাহত থাকলে খাদ্যঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি সার সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, পাঁচটি সরকারি সার কারখানার মধ্যে চারটিই বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও সার সরবরাহের দাবিতে ১০ এপ্রিল বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মনির, সাদমান আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নূরা জেরিন, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির প্রমুখ।