প্রকাশ্যে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে রংপুরে বয়কট করে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে জাপাকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ জুলাইযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ।
গত মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জিএম কাদের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেন। গতকাল বুধবার বিকালে এ বিষয়ে রংপুরের বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয়রা বলেন, জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করে আসছে। তারা স্বৈরাচার সরকার থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলটি ফ্যাসিবাদের পক্ষেই কথা বলেছে। জাতীয় পার্টি ভারতের দালালি করার কারণে দলমত নির্বিশেষে জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার এবং তার দলকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ জনগণ।
এরই মধ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন কমিশন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ায় নাখোশ রংপুর অঞ্চল তথা সারা দেশের জুলাইযোদ্ধা, গণতন্ত্রপ্রেমী সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ভারতের দালাল আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকারী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তার দলকে চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সরওয়ার জাহান, আমিনুল হক এবং মহুব আলী জানান, যে জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের হয়ে কথা বলে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিল, সেই জাতীয় পার্টিকে কেন এতদিন নিষিদ্ধ করা হয়নি- এ জবাব কে দেবে। সেই দলকে আবারও বর্তমান সরকার ভোটে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে বেঈমানি।
এ বিষয়ে জুলাইযোদ্ধা ও রংপুর জেলার সমন্বয়কারী ইমরান আহমেদ আমার দেশকে জানান, আমরা অনেক আগেই জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছিলাম। জেএম কাদের প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন। তারা তখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছে, এখনো ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের জন্য ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে।
এনসিপি রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব রুস্তম আলী বলেন, শুধু জিএম কাদের বা যেকোনো নেতা হোক, যারাই ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু আমার দেশকে বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে আছেন। তিনি এখন প্রকাশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে গিয়ে নির্দ্বিধা ও নির্ভয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন। তিনি জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল আমার দেশকে বলেন, জাতীয় পার্টি নিজেরাই ফ্যাসিস্ট। তারা তো আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলবেই। জাতীয় পার্টিকে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিয়ে বড় ভুল করেছে নির্বাচন কমিশন। দলটিকে অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। জিএম কাদের মূলত ভারতের দালাল।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। এ কারণে আমরা গণভোটে ‘না’-এর পক্ষেই থাকব। আমাদের নেতাকর্মীরা কখনো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলবেন না।