হোম > রাজনীতি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলায় উদ্বেগ বিএনপির

বাছির জামাল

দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি মনে করে, গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পর এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। এসব ঘটনা নির্বাচন প্রলম্বিত করার ষড়যন্ত্র। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। এই ইস্যুতে আগামী সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের উদ্বেগ ও অবস্থান তুলে ধরবে বিএনপি।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আমার দেশকে বলেন, যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি। সরকার যেন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো উসকানিতে কেউ যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি না করে, সে আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, সরকারকে বলব আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা ভেরি শর্টলি দেখা করব। আর ফেব্রুয়ারিতে কর্মসূচি ঘোষণা করব।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সভায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ সারাদেশে ভাঙচুরের ঘটনা, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটাকে এক ধরনের ফাঁদ হিসেবে মনে করছেন তারা। তাই নেতাকর্মীদের বিরোধী পক্ষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ম্যুরাল ভাঙচুরসহ যেকোনো হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে ছাত্ররা তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা, যাতে দ্রুততম সময়ে রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হয়। কারণ ছাত্ররা নতুন দল গঠন করে সারাদেশে সংগঠনকে সুসংহত করতে যথেষ্ট সময় চায়। অন্যদিকে বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। নির্বাচন দিতে দেশি-বিদেশি চাপও বাড়ছে। তাই বিএনপি মনে করে, এমন অবস্থায় নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এর আগে বিএনপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে উগ্র নৈরাজ্যবাদী গণতন্ত্রবিরোধী দেশি-বিদেশি অপশক্তির পাশাপাশি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, যার উপসর্গ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে আছে বিভাগীয় ও জেলায় জেলায় সমাবেশ। এ ইস্যুতে রমজানের আগেই কর্মসূচি পালিত হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। মূলত নির্বাচনের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিএনপি।

বৈঠকে অংশ নেনÑ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস (অনলাইনে), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (অনলাইনে), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অনলাইনে), সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (অনলাইনে), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেন।

অসুস্থ জামায়াত আমিরের কিছু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

নারী আসন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জামায়াতের

বিএনপি ক্ষমতায় আসায় দ্রব্যমূল্য কমতে শুরু করেছে: বরকতউল্লা বুলু

শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে

ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির

নতুন দায়িত্বে সারজিস আলম

আ.লীগের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে: জামায়াত

পিলখানার ঘটনা ছিল সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

রাষ্ট্রপতির আচরণ অগ্রহণযোগ্য: জামায়াত আমির