সিলেটের ছয়টি আসনে এখন নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থী পরিচিতি, পথসভা, প্রচার মিছিল, মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচিতে এখন মাঠ গরম। মূল লড়াইটি বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামি দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ধীরে ধীরে মাঠে নামছেন এনসিপির কিছু প্রার্থীও। মাঠে আওয়ামী লীগতো নেই-ই, জাতীয় পার্টিরও কোনো অস্তিত্ব টের পাচ্ছেন না ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামী আগেই সংগঠিত প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তারা সিলেটের ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে; শুধু সিলেট-১-এ প্রার্থী পরিবর্তন হয় ২১ মে। এ আসনে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের বদলে মাওলানা হাবিবুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। এরপর থেকে জামায়াত প্রার্থীরা সব আসনেই সক্রিয় রয়েছেন প্রচারে। তবে জামায়াতের নেতৃত্বে আটদলীয় জোট আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করলে ঘোষিত বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বিপরীতে বিএনপি এখন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতেই চলছে অস্থিরতা। গত ৩ নভেম্বর দলটি সারা দেশে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। সে সময় সিলেটের চারটি আসনে প্রার্থী দিলেও ৪ ও ৫-এ দুটি আসন ফাঁকা রাখা হয়। ফলে ওই দুই আসনে এখন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি শোডাউন ও লবিং চলছে।
ঘোষিত চারটি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদির লুনা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বিঘ্নে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা দলের জনপ্রিয় মুখ। তার সক্রিয় মাঠ-সংগ্রাম ও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তা তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
তবে বাকি চারটি আসনেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে। কোথাও মনোনয়নের দাবি, কোথাও আবার মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কর্মী-সমর্থকরা এসব আসনে দিন-রাত মিছিল-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। সে সঙ্গে মনোনয়নপ্রাপ্ত ও আশ্বাসপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সমর্থকরাও তাদের প্রার্থীর সমর্থনে সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনটি জোটকে দেওয়া হতে পারে। অন্তত একটি আসনে ছাড় চাইছে বিএনপি সঙ্গে জোটে থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। শেষ পর্যন্ত জোট হলে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে আসনটি ছেড়ে দিতে হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) আসন ছাড়তে নারাজ। দীর্ঘ ১৭ বছরের মাঠের রাজনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আসন বিএনপির সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটিগুলোর একটি। এটি কীভাবে ছাড়ি? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আমার আবেদন, এ আসন বিএনপিকেই দিতে হবে।
অপরদিকে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌখিকভাবে প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন। তবে কেন্দ্র থেকে লিখিত কোনো ঘোষণা না থাকায় বঞ্চিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মিটিং-মিছিল, মশাল শোভাযাত্রা ও গণসংযোগে
সক্রিয় রয়েছেন।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি এমএ মালিক এবং সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে সেখানকার বিএনপির একাংশ মনোনয়ন তালিকার রিভিউ চেয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ভয়ে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও অনুসারীরা ভোটের পূর্বের হিসাব ও নানা যুক্তি তুলে ধরে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন। ফলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মূল লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের দলের চাপও সামাল দিতে হচ্ছে প্রার্থীদের। এতে অনেকেই স্বস্তিতে প্রচার চালাতে পারছেন না।
এদিকে জামায়াত প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সিলেট-১ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান, ২ আসনে অধ্যক্ষ এমএ হান্নান, ৩ আসনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ৪ আসনে জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ৫ আসনে হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান এবং সিলেট-৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল না থাকায় তাদের নির্বাচনি প্রচারে যুক্ত হচ্ছে দলের সব পর্যায়ের মানুষ।