ঢাকা-১৩ আসন (নির্বাচনি এলাকা নম্বর ১৮৬) থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. মামুনুল হক। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তার আয়, পেশা ও ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, মো. মামুনুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।
আয়ের উৎস হিসেবে তিনি বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা, যার মধ্যে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯০ টাকা আসে শিক্ষকতা ও পরামর্শক খাত থেকে এবং বাকি অংশ ব্যবসা থেকে। দাখিলকৃত ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা, যার জন্য তিনি ৫৯ হাজার ৩৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তার নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা। এছাড়া বন্ড ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ টাকা এবং অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য হিসেবে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি ফৌজদারি মামলা বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ১৯০৮ সালের ৩/৪ ধারায় দায়ের করা, যা বিজ্ঞ সিনিয়র মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫, ঢাকায় বিচারাধীন। আরেকটি মামলা বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে। তৃতীয় মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯-এর অধীনে দায়ের করা, যা বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামে তদন্তাধীন রয়েছে।
অতীতে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, পল্টন থানায় দায়ের করা মোট ৩৮টি ফৌজদারি মামলার মধ্যে ৩২টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ৫টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং ১টি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মো. মামুনুল হকের জন্ম তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩। বয়স ৫৩ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স। তার পিতার নাম মাওলানা আজিজুল হক এবং মাতার নাম ছারা বেগম। স্ত্রী আমিনা তাইয়েবা। তার চার ছেলে রয়েছে, তারা সবাই ছাত্র।
বর্তমান ঠিকানা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন—বাসা নম্বর ০৭, গ্রাম/রাস্তা ০১, কাদেরাবাগ হাউজিং, ব্লক-ডি, ডাকঘর মোহাম্মদপুর-১২০৭, মোহাম্মদপুর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা। স্থায়ী ঠিকানা—৭/২, আজিমপুর রোড, লালবাগ, নিউমার্কেট, ঢাকা-১২০৫।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এসব তথ্য তিনি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করেন।