নিরাপত্তার শঙ্কায় ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বৈশ্বিক আসরে খেলতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাঠে। কিন্তু ভারতের চাপে বিসিবির এই যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এমন কঠিন সময়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রতি সহমর্মিতা জানান ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড। এমনটি জানিয়েছে ক্রিকেটবিষয়ক পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো।
কোয়ালিফাই করার পরও বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। এজন্য লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতি সহমর্মিতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেন, ‘অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ দলের প্রতি আমাদের পুরো সহানুভূতি আছে।’
এভাবে বিশ্বকাপে খেলতে চায়নি স্কটল্যান্ড। লিন্ডব্লেড এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপে যেতে চাইনি। বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়া আছে। কেউই এমন পথে বিশ্বকাপে খেলতে বা আমন্ত্রণ পেতে চায় না। আমরা বুঝি, আমাদের অংশগ্রহণটা হচ্ছে একেবারেই ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে। আর সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে।’
হুট করে বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ পাওয়ায় স্কটিশ ক্রিকেটে চলছে তোড়জোড়। শেষ মুহূর্তে অসম্ভব ব্যস্ততায় সময় কাটছে তাদের। এ নিয়ে লিন্ডব্লেড বলেন, ‘আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এখন দিনে ২১ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। সাতদিনের মধ্যে স্কটল্যান্ড থেকে ভারতে দল পাঠানো সোজা কথা নয়! তবে আইসিসি আমাদের সাহায্য করছে। যদি সব ঠিক থাকে, তবে এ সপ্তাহের শেষেই দল ভারতের বিমানে চড়বে।’
প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও এ বৈশ্বিক আসরে নিজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে লিন্ডব্লেড দারুণ আশাবাদী, ‘আমরা সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছি। কিছু অঘটন ঘটাতে চাই। প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় আমাদের ওপর চাপ হয়তো কিছুটা কম, কিন্তু নিজেদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।’
হঠাৎ করে সুযোগ পেলেও বিশ্বকাপে খেলতে স্কটল্যান্ড প্রস্তুত আছে। তাদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত ভিসার কাজ শেষে টিকিট কাটা। তাই মাঠে নামার আগে স্কটিশরা লড়াই করে যাচ্ছেন সময়ের সঙ্গে। এখনো ফ্লাইট ও ভিসার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড অবশ্য এ নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন। স্কাই স্পোর্টসকে তিনি জানিয়েছেন, তারা এমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। বিশ্বকাপ দলের ক্রিকেটারদের জার্সি প্রস্তুত, খেলোয়াড়রাও নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। প্রস্তুত করছেন মাঠের লড়াইয়ের জন্য।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আসরটিতে বাংলাদেশের জায়গায় ‘সি’ গ্রুপে খেলার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। গ্রুপপর্বে স্কটিশদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল আর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটা ইউরোপেরই আরেক দল ইতালি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মোকাবিলা করবে তারা। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি—মানে ভালোবাসা দিবসে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্কটিশরা। এডিনবরার প্রচণ্ড শীত ছেড়ে ভারতের রোদে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা তারা দারুণ উপভোগ করছে এখন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৪ বিশ্বকাপে ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিয়েছিল স্কটল্যান্ড। বৃষ্টির বাধা না থাকলে হয়তো গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ই ছিনিয়ে নিত তারা। আর ফেভারিট অস্ট্রেলিয়ার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সমান তালে লড়াই করে গেছেন স্কটিশ ক্রিকেটাররা।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পায়নি বিসিবি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একাধিকবার জানান, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে দল পাঠানোর অনুমতি দেবে না বাংলাদেশ সরকার। ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল বাংলাদেশ। শত চাপেও নিজেদের অবস্থান একইভাবে ধরে রাখে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। আইসিসি ও বিসিবি, দুপক্ষ চিঠি চালাচালি ও বৈঠক করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেনি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিসিবির পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়। বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই রাজি করাতে না পেরে একদিনের আলটিমেটাম দেয় আইসিসি। শেষমেশ আইসিসির আলটিমেটামও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বিসিবি। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। এমনকি বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কট করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে তারা।