বাংলাদেশের নারী ভারোত্তোলনের সবচেয়ে বড় তারকা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এসএ গেমসে জোড়া স্বর্ণপদক জয়ী এই ভারোত্তোলক একটি ভুলের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। জানা যায়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শেষে মাবিয়ার ডোপিং টেস্ট পজিটিভ এসেছে। গেমসের ডোপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা ইন্টারন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানায়, তার শরীরে নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ডোপিং প্রক্রিয়ায় ‘এ’ নমুনার পর এখন ‘বি’ নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন মাবিয়া। এ পরীক্ষায় যদি ফল পজিটিভ হয়, তাহলে নিষিদ্ধ হতে পারেন এই নারী ক্রীড়াবিদ।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মেডিকেল কমিটির সদস্য সচিব ডা. শফিকুর রহমানের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার পরীক্ষাগারে পাঠানো মাবিয়ার প্রথম নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর ইতালির পরীক্ষাগারে দ্বিতীয় নমুনা পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা দূষিত সাপ্লিমেন্ট থেকেও শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান চলে আসতে পারে। মাবিয়ার ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
২৬ বছর বয়সি ভারোত্তোলক মাবিয়া আমার দেশকে বলেন, ‘আমার হাঁটুতে পানি জমে গিয়েছিল। তাই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেয়েছি। ওই ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় ডোপ টেস্টের এমন ফল এসেছে। কিন্তু ওই ওষুধ ভারোত্তোলকদের জন্য খাওয়া নিষেধ- এটা আমি জানতাম না।’ মাবিয়া আরো জানান, সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসক না থাকায় ব্যক্তিগতভাবে বাসার কাছে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘ইডিমাইট ২০’ নামের এক্মি কোম্পানির ওষুধ সেবন করেন এই তারকা খেলোয়াড়। সলিডারিটি গেমসের আগে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ডোপ টেস্ট হয়েছে মাবিয়ার। কিন্তু সেখানে কিছু ধরা পড়েনি। তাই তার খেলাতেও কোনো বাধার সৃষ্টি হয়নি। গত বছর জাতীয় প্রতিযোগিতায় ৬৯ কেজি বিভাগে স্ন্যাচে ৯২ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৮ কেজি তুলে মোট ২১০ কেজি ভার তুলে রেকর্ড গড়েন মাবিয়া। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। কিন্তু এই সফল ভারোত্তোলকের সামনে এখন অন্ধকারের হাতছানি।