বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন সপ্তাহ সময়ও বাকি নেই। তবে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিসিবি এখনো অনড় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার ব্যাপারে। গত পরশু আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হলে সেখানে আসেনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত। ওই আলোচনায় ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্তে কোনো সায় দেয়নি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। তারাও অপরাগতা প্রকাশ করেছে ভারতের মাটিতে খেলতে। তাতে আরো জটিল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে হয়তো শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা নাও হতে পারে বাংলাদেশের!
দুই দফায় আইসিসির সঙ্গে বৈঠক করেছে বিসিবি। সেখানে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে—সেসব বিষয়ে মুখ খোলেনি আইসিসি কিংবা বিসিবি। তবে বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে বেশ গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা আরো চলবে। তবে যেখানে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে তিন সপ্তাহের কম সময় বাকি—সেখানে কবে নাগাদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটপাড়ায়। এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে একাধিক বিসিবি পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কেউই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। অর্থাৎ, আইসিসি কিংবা বিসিবি কেউই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আইসিসির সঙ্গে দুই দফার বৈঠকে স্পষ্ট বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশকে নিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে।
আইসিসির সঙ্গে বিসিবির বৈঠকের আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একাধিকবার জানান, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক। সেটা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে আইসিসি। সে কারণে কম লজিস্টিক ঝামেলায় আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছিল। তবে বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে সপ্তাহ তিনেকের মতো সময় থাকায় আপাতত এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি আইরিশরা।
ফলে আইসিসির জন্য এখন কমে এসেছে বিকল্প চিন্তাও। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলাতে ম্যাচ আয়োজন করতে হবে শ্রীলঙ্কায়! এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আইসিসিকে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কারণ, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কোনো দলেরই লঙ্কার মাটিতে নেই কোনো ম্যাচ। ফলে ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করে এই চার দলকে শ্রীলঙ্কায় উড়িয়ে নিতে হবে শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য। এই চার দল আইসিসির এই প্রস্তাবে রাজি হবে কি না সেটা এখন বড় প্রশ্ন।
এই চার দলের রাজি হওয়ার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দলের জন্য ভেন্যু প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি খেলা আয়োজনের অন্যান্য প্রস্তুতি ও সম্প্রচার স্বত্বের জটিলতাও আছে জড়িয়ে আছে। ফলে এত অল্প সময়ে এই জটিলতায় কাটিয়ে বাংলাদেশের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়াটা এখন বড্ড কঠিন। আর তিন সপ্তাহের কম সময় বাকি থাকতেও যখন সিদ্ধান্ত হয়নি, তখন ব্যাপারটা যে আরো জটিল আকার ধারণ করেছে সেটা বলতে আর বাকি থাকে না।
শেষ পর্যন্ত যদি বিশ্বকাপ খেলতে না যায় তাহলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ক্ষতির দিকটাও মাথায় রেখেছে বিসিবি। সেই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে অবশ্য ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয় বোর্ড। বিসিবির চাওয়া শ্রীলঙ্কায় হোক বাংলাদেশের ম্যাচ।
সব পক্ষকে রাজি করিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন আইসিসির। তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে কি না। আইসিসির সিদ্ধান্ত পক্ষে না গেলে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে খেলা হবে সেটা একরকম নিশ্চিত করেই বলে দেওয়া যায়।