নিজের তৃতীয় ওভারে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত করতে পারেননি শরিফুল ইসলাম। তবে ওই ওভারে মেডেন দিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। ক্যারিয়ারের নবম মেইডেন ওভার করার দিনে শরিফুলের খরচ ছিল ৯ রান। ওভারপ্রতি ২.৩৪ রান খরচ করা এই বাঁহাতি পেসারের শিকার ছিল ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে শরিফুলের প্রথম ফাইফারের দিনে জিতেছে তার দল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
আজ মিরপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে বল হাতে শরিফুলের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম ওভারে তার খরচ ছিল ৫ রান। ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই হজম করেন বাউন্ডারি। এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি এই বাঁহাতি। তাতে স্পষ্ট বল হাতে কতটা প্রভাব রেখেছেন। প্রথম ওভারে বাউন্ডারি হজম করা শরিফুল প্রথম উইকেটের দেখা পান নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে। ফেরান নোয়াখালীর আফগান রিক্রুটমেন্ট হাসান ঈসাখিলকে। পাওয়ার প্লে শেষে শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৮-১।
নিজের তৃতীয় ওভারে আরো দারুণ ছিলেন শরিফুল ইসলাম। এই ওভারে তিনি খরচ করেননি কোনো রান। উল্টো শিকার করেন দুই উইকেট। স্লগ ওভারে বোলিংয়ে এসে নোয়াখালীর লোয়ার অর্ডারের দুই ব্যাটার হাসান মাহমুদ ও মেহেদি হাসান রানাকে ফেরান প্যাভিলিয়নে। টানা দুই বলে দুই ব্যাটারকে আউট করে জাগান হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন। তবে আফগানিস্তানের জহির খান বলটা দারুণভাবে সামলে আটকে দেন শরিফুলের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন। দুই উইকেট শিকার করা ওভারে শরিফুলের ছিল না কোনো খরচ। তাতে এই ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩-১-৮-১।
ম্যাচের ১৯ ওভারে করতে আসেন নিজের শেষ ওভার। দ্বিতীয় বলে প্রান্ত বদল করে এক রান নেন জহির খান। এর পরের বলেই আউট হন সাব্বির হোসেন। এক বল বিরতি দিয়ে আউট হন নোয়াখালীর শেষ ব্যাটার ইহসানউল্লাহ। তাতে এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয় নোয়াখালী আর শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩.৫-১-৯-৫! মোট ২৩ বল বোলিং করে ডট দেন ১৮ বল! অর্থাৎ, শরিফুলের করা ২৩ বলের মধ্যে মাত্র ৫টি থেকে রান নিতে পেরেছিলেন নোয়াখালীর ব্যাটাররা।
এবারের আসরে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ড এখন তার দখলে। শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে। বিপিএলের ইতিহাসে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়ার ষষ্ঠ বোলার এখন তিনি।
৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়া বাংলাদেশি বোলার-
সাকিব আল হাসান (বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস)- ৬/৬
নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স)- ৫/৭
শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস)-৫/৯
বিপিএলে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়ার ঘটনা-
মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী)- ৫/৬, ২০১২
ফাহিম আশরাফ (ফরচুন বরিশাল)- ৫/৭, ২০২৫
নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স)- ৫/৭, ২০২৬
ওয়াহাব রিয়াজ (ঢাকা প্লাটুন)- ৫/৮, ২০১৯
শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস)- ৫/৯, ২০২৬