ব্রাজিলিয়ান সিরি’এ
চোট ছাড়া যেন চলেই না নেইমার জুনিয়রের! কথাটা অদ্ভুত শোনালেও একেবারে অমূলক নয় কোনোভাবেই। কারণটা সবার জানা। ইনজুরি থেকে ব্রাজিলিয়ান এ ফরোয়ার্ড যতই দূরে থাকতে চান না কেন? ইনজুরি যে কিছুতেই তার পিছু ছাড়ে না। সবশেষ চোটটা পেয়েছেন বাঁ পায়ের মেনিস্কাসে (হাঁটুর সংযোগস্থলে)। পায়ে অস্বস্তি থাকলেও অনুশীলন সেরেছেন ঝুঁকি নিয়েই। অথচ ক্লাব সান্তোসের চিকিৎসকরা তাকে এই চোট কাটিয়ে উঠতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ দিয়েছিল এ খবর।
সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করতে পেরে তাকে মাঠে না নামার পরামর্শ দিয়েছিলেন সান্তোস কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তিগত স্টাফরাও। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবার সতর্কবার্তা অমান্য করে আরো বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন। পায়ে প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে আজ খেলে ফেলেছেন ম্যাচের ৮৯ মিনিট পর্যন্ত। কারণ পরামর্শ মানলে ২০২৫ সালে আর মাঠে নামা সম্ভব হতো না বার্সেলোনা ও পিএসজি সাবেক এ তারকার পক্ষে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের জার্সি উঠছে না নেইমারের গায়ে। কিন্তু সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের জন্য বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়েছেন। এ ম্যাচে জয়ও পেয়েছে সান্তোস। ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পোর্টকে। লড়াইয়ের ২৫ মিনিটে নেইমার নিজে গোল করেছেন। সতীর্থকে দিয়েও গোল করিয়েছেন।
দুর্বার এ জয়ে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে সিরি’এর পয়েন্ট তালিকায় ১৫তম স্থানে উঠে এসেছে সান্তোস। লিগে বাকি আর দুই ম্যাচ। আগামী বৃহস্পতিবার জুভেন্তুদের মোকাবিলা করবে সান্তোস। নেইমার এই ম্যাচেও খেলতে চান।
২০ নভেম্বর ব্রাজিলিয়ান সিরি’এ-তে মিরাসলের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান নেইমার। কিন্তু তারপরও ঝুঁকি নিয়ে কেন মাঠে নেমেছিলেন? ম্যাচ শেষে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নেইমার, ‘চোটটি দুঃখজনক ও বিরক্তিকর। কিন্তু আমাকে কিছু করা থেকে এটা (চোট) বিরত রাখতে পারবে না। এ কারণেই খেলছি। এখন সান্তোসকে নিয়ে ভাবার সময়। সান্তোসকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে তারা যোগ্য, সেটা হলো ব্রাজিলিয়ান সিরি’এ।’