বিশ্লেষণ
এটা পরিষ্কার সত্য যে, ভারতের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে আমাদের বেশ ভালো একটা স্কোর লাগবে। কিন্তু ২২৮ রানের স্কোরকে ‘ভালো স্কোর’ বলার কি উপায় আছে? বোলাররা ভালো বোলিং করছে। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররাও ভালো করেছে। কিন্তু আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম যে শর্ত পূরণ করার প্রয়োজন ছিল, অর্থাৎ বড় একটা সঞ্চয়; ব্যাটাররা সেটা করতে পারেনি। শুরুতেই পাঁচটি উইকেট হারিয়েছি আমরা। আমরা ব্যাকফুটে চলে গেছি পাঁচ উইকেট হারিয়ে। তারপর এই ইনিংসে আমাদের সামনে একটাই কাজ ছিল রিকভারি করা। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ভাঙাচোরা ইনিংসটাকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরে নিয়ে যাওয়া। তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলীর জুটিতে আমরা ৩৫/৫ এর ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে পেরেছি কিন্তু আমাদের দলীয় স্কোর ম্যাচ জয়ের মতো কিছু হয়নি।
আমাদের বড় সমস্যা হলো ব্যাটারদের ফর্ম। সৌম্য সরকারের ফর্ম, মুশফিকুর রহিমের ফর্ম, তাওহিদ হৃদয় আগে খুব একটা ভালো অবস্থানে ছিল না। তবে এই ম্যাচে তাওহিদ অসাধারণ ভালো ব্যাটিং করেছে। তানজিদ হাসান তামিম উইকেটে সেট হয়ে আউট হয়েছে। দলের কিছু ব্যাটার এমন পর্যায়ে গিয়ে আউট হয়ে ফিরছেন যাতে দল পড়ে যাচ্ছে চাপে। এতে নিজেদের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অনেক বড় টুর্নামেন্ট। আগামীর তারকা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এই টুর্নামেন্ট আদর্শ জায়গা। হৃদয় নিজের প্রথম ম্যাচেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আমি ভীষণ খুশি হব দলের তরুণ ব্যাটাররা যদি এই টুর্নামেন্টে নিজেদের মেলে ধরতে পারে।
সৌম্য আউটের ধরনটা আমাকে কিছুটা অবাক করেছে। প্রথম বল থেকে তাকে দেখে মনে হয়েছে বাড়তি টেনশনে রয়েছে সে। নবিশি কায়দায় তার ব্যাট চালানোর ভঙ্গি দেখেই বোঝা যায় চাপের চোটেও ভেঙে পড়েছে সে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তার জন্য নতুন কিছু নয়। সেই ২০১৫ সাল থেকে সৌম্য জাতীয় দলে খেলছে। এখন পর্যন্ত যদি নিজেকে দলের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, দলের প্রয়োজনে নিজেকে প্রমাণ করতে না পারে, দলকে সহায়তা করতে না পারে, তাহলে এমন বড় মঞ্চে এসে আমাদের পারফর্ম করা বেশ কঠিন হবে। ক্রিকেট মাঠে তার সময়টা অনেক দিন ধরেই ভালো যাচ্ছে না। বিপিএলেও ভালো কিছু হয়নি। জানি না মাহমুদউল্লাহ ইনজুরি কতটুকু কী অবস্থায় আছে। পারভেজ হোসেন ইমন বা দলের তরুণদের নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। সৌম্য যদি ভালো না করে। সৌম্যর ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সৌম্যের জায়গায় ইমনকে দেখার সুযোগ আছে।
ভারত ম্যাচে আমাদের পাঁচজন কম্প্যাক্ট বোলার খেলেছে। একজন কোনো কারণে ফেল করলে ওখানে কিন্তু আমাদের ব্যাক করার সুযোগ নেই। আমাদের ব্যাক-আপ বোলার খুব একটা নেই। তবে মানতেই হচ্ছে বোলাররা অসাধারণ বোলিং করেছে। তাসকিন বরাবরের মতো দুর্দান্ত ছিল। মোস্তাফিজের আরো একটু ভালো করার সুযোগ ছিল।
দুই স্পিনারের মধ্যে রিশাদ হোসেন ভারতের ক্লাস ব্যাটারদের বিপক্ষে অসাধারণ বোলিং করেছে। ব্যাটারদের চাপে রেখেছে। মিরাজ উইকেট না পেলেও বোলিংটা কিন্তু ভালো করেছে। দলের সমন্বয়ের জায়গায় আমাদের সব সময় বড় গ্যাপ রয়ে যায়। সাকিবের রিপ্লেসমেন্ট না থাকায় জেনুইন অলরাউন্ডার বা বাঁ-হাতি অফস্পিনার তৈরি না হওয়ায় আমাদের দলে সমন্বয় করা সমস্যা হয়ে পড়েছে। দলে ভারসাম্য রাখাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ম্যাচ জিততে হলে বোলাররা যতই ভালো পারফর্ম করুক দলের ব্যাটাররা যদি দায়িত্ব না নেয় তাহলে কোনো লাভ হবে না। আফসোস নিয়েই দিন কাটবে আমাদের। আমি আশায় আছি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচেই টপ ও মিডলঅর্ডারের ব্যাটাররা যেন বড় রান করে আমাদের আনন্দে রাখেন। আর এই বড় রান সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে।
* সানোয়ার হোসেন : জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার