ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারে দল থেকে বাদ পড়ার নজির খুব একটা নেই। নিয়মিত একাদশেই দেখা যেত তাকে। অথচ সেই শচীনকেই কিনা দল থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন নির্বাচকরা! এমনটাই জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সন্দীপ পাতিল। ‘দ্য ভিকি লালওয়ানি শো’ পডকাস্টে পাতিল জানান, ২০১২ সালে খারাপ ফর্মের কারণে শচীনের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন। সে সময় তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার আলোচনা ওঠে।
২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের পর শচীনের পারফরম্যান্সে বড় ধস নামে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে আটটি টেস্টে তিনি করেন মাত্র ৫৬০ রান, যার মধ্যে ছিল চারটি অর্ধশতক। সেই দুই সিরিজেই ভারত ০–৪ ব্যবধানে হারে। পরে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও চার টেস্টে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১২ রান, গড় ১৮.৬। এ সময় ভারতের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণ ইতোমধ্যে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন। ফলে ৩৯ বছর বয়সী শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১২ সালের নাগপুর টেস্টের শেষ দিনের পর সন্দীপ পাতিল ও সহ–নির্বাচক রাজেন্দ্র সিং হান্স শচীনের সঙ্গে দেখা করেন। এক পডকাস্টে পাতিল জানান, তিনি তখন শচীনকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। নির্বাচক কমিটির ধারণা ছিল, শচীনের তখন আর দলকে দেওয়ার মতো কিছু নেই। এবং তার বিকল্প খোঁজার সময় এসেছে। এই মন্তব্যে শচীন বিস্মিত হয়ে যান। তিনি পাতিলকে ফোন করে জানতে চান, বিষয়টি তিনি সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে বলছেন কি না। পাতিল তখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। যদিও টেন্ডুলকার তখন জানান, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান।
এই ঘটনার অল্প কিছুদিন পরই অবশ্য শচীন ওয়ানডে থেকে অবসর নেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর তিনি আরও এক বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ৪–০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে শচীনের ব্যাট থেকে আসে ১৯২ রান, যেখানে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮১। একই বছর তিনি আইপিএল থেকেও অবসর নেন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলে ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ভারতীয় কিংবদন্তি। তিনি ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০টি টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪ হাজারের বেশি (৩৪৩৫৭) রান করে ক্যরিয়ার শেষ করেন ভারতীয় গ্রেট।