শেষ ষোলোয় বার্সা-লিভারপুল
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত এক রাত দেখল দর্শকরা। অনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে গেল ইউরোপ সেরার আসর। রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলকে হারিয়ে চমক জাগিয়েছে বেনফিকা। সমীকরণের জটিলতা ছাড়িয়ে বার্সেলোনা পা রেখেছে শেষ ষোলোতে। আবার সমীকরণ মেলানোর হিসেবে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কোনো জায়ান্ট দলকে। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক রাত উপহার দিল দলগুলো।
রাতের সবচেয়ে চমকপ্রদ ম্যাচ উপহার দিয়েছে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ। একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮ ম্যাচের ১৭টির আলো পানসে করে সব আলো কেড়ে নিয়েছিল রিয়াল-বেনফিকা। পুরো ম্যাচ এতই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে যে, পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থেকে মাঠে নেমে ম্যাচ শেষে রিয়াল নিজেদের আবিষ্কার করে টেবিলের নয় নম্বরে! বিপরীতে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বেনফিকার প্লে অফ খেলার সম্ভাবনা শেষ মুহূর্তের এক অবিস্মরণীয় গোল বাস্তবে রূপ নেয়। ম্যাচটি বেনফিকা জিতেছে ৪-২ গোলে। রিয়ালের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বেনফিকার হয়ে দুটি গোল করেন আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডেরুপ এবং একবার করে জাল খুঁজে নেন পাভলিদিস ও আনাতলি ক্রুবিন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের আট মিনিটের শেষ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোল করে বেনফিকাকে নকআউট পর্বে তুলে দিলেন গোলকিপার ত্রুবিন। আর তাতেই মার্শেইকে বিদায় করে ২৪তম হয়ে নকআউট প্লে-অফে বেনফিকা। রিয়াল নবম হয়ে জায়গা পেল প্লে-অফেই।
রিয়ালের প্লে-অফ খেলার দিনে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা। ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোপেনহেগের বিপক্ষে তারা ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছেই স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। বার্সার হয়ে গোল পেয়েছেন রবার্ট লেভানডোভস্কি, লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও মার্কাস র্যাশফোর্ড। বার্সেলোনার শেষ ষোলো নিশ্চিতের ম্যাচে সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে ম্যানসিটি ও লিভারপুলও। তুর্কি ক্লাব গালাতাসারইয়ের ২-০ ব্যবধানে জিতেছে সিটিজেনরা। ম্যানসিটির হয়ে দুটি গোল করেন আর্লিং হালান্ড ও রায়ান চেরকি। লিভারপুলের বড় জয় প্রত্যাশিতই ছিল। কারবাখ এফকের বিপক্ষে ৬-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। জোড়া গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। একবার করে জালের দেখা পান মোহামেদ সালাহ, ফ্লোরিয়ান ভিটৎস, হুগো একিটিকে ও ফেদেরিকো চিয়েসা। টানা তৃতীয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় উঠল আর্না স্লটের দল।
এদিকে, প্লে অফের গ্যাঁড়াকলে আটকে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। পার্ক দে প্রিন্সেসে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে হিসাব মেলাতে পারেনি তারা। দুদলকেই প্লে অফের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে হবে। ভেলকি দেখিয়েছে নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমট। তারা পরপর দুই ম্যাচে ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় প্লে অফ খেলবে! প্রথমে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারানোর পর এবার হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। ১৫ মিনিটে গোল করে অ্যাটলেটিকোকে লিড এনে দেন আলেক্সান্ডার সরলথ। তারপর ফ্রেডরিক সিয়োভোল্ড ও ক্যাসপার হইয়ের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৩তম স্থান নিশ্চিত করে বোডো/গ্লিমট।
নরওয়ের মাছ ধরার শহর বোডো থেকে আসা এই দলটির চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেকের গল্প কতটা অনবদ্য সেটা কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়া আবেগ থেকেই স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে বোডো/গ্লিমট কোচ কিয়েটিল নুটসেন বলেন, ‘অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো কঠিন, আমি ভীষণ গর্বিত। এর সঙ্গে আমি কোনো কিছুর তুলনা করতে চাই না। আমরা যেটা করি, সেটাই করেছি। সেটার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়াই উচিত। অর্জন নিজেই নিজের পরিচয় বহন করে।’
সরাসরি শেষ ষোলোতে (শীর্ষ ৮)
আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি।
নকআউট প্লে–অফে (৯ থেকে ২৪)
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল, জুভেন্টাস, আতলেতিকো মাদ্রিদ, আতালান্তা, লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগা, গালাতাসারাই, মোনাকো, কারাবাগ, বোডো/গ্লিমট ও বেনফিকা
বাদ পড়েছে যারা
মার্শেই, পাফোস, ইউনিয়ন সেঁ–জিলোয়াস, পিএসভি আইন্দহফেন, বিলবাও, নাপোলি, কোপেনহেগেন, আয়াক্স, ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাতি।
একনজরে ফল
পিএসজি ১-১ নিউক্যাসল
ম্যান সিটি ২-০ গালাতাসারাই
লিভারপুল ৬-০ কারাবাগ
ডর্টমুন্ড ০-২ ইন্টার মিলান
বার্সেলোনা ৪-১ কোপেনহেগেন
আর্সেনাল ৩-২ কাইরাত
লেভারকুসেন ৩-০ ভিয়ারিয়াল
অ্যাটলেটিকো ১-২ বোডো/গ্লিমট
বেনফিকা ৪-২ রিয়াল মাদ্রিদ
ফ্রাঙ্কফুর্ট ০-২ টটেনহাম
ব্রুগা ৩-০ মার্শেই
পিএসভি ১-২ বায়ার্ন
আয়াক্স ১-২ অলিম্পিয়াকোস
নাপোলি ২-৩ চেলসি
মোনাকো ০-০ জুভেন্টাস
ইউনিয়ন ১-০ আতালান্তা
বিলবাও ২-৩ স্পোর্তিং সিপি
পাফোস ৪-১ স্লাভিয়া প্রাগ