হোম > বিশ্ব

সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গোয়েন্দাপ্রধান উপেক্ষিত

ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের প্রস্তুতি

বশীর আহমেদ

ফাইল ছবি

ইসরাইলকে রক্ষায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করবে কি না—সেজন্য দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যাশা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে রাখা হচ্ছে না দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ডকে। তাদের কোনো ধরনের পরামর্শই আমলে নিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি জি-৭ বৈঠক অসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে ইরান ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের যে বৈঠক করেছেন, সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন এই দুই প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হাতেগোনা দু-একজন জেনারেল— যারা ইসরাইলের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, কেবল তাদের সঙ্গেই পরামর্শ করছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট, ফক্স নিউজ, এনবিসি, সিএনএন, ফিন্যানশিয়াল টাইমস, বিবিসি, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন রীতিমতো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধানের অনুপস্থিতি তারই প্রমাণ। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। তিনি কখনো যে কোনো সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসসহ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলছেন, তেহরান আলোচনার সুযোগ হারিয়েছে। এখন আর সময় নেই। আবার কখনো বলছেন, আমি ইরানে সরাসরি হামলা করতেও পারি, নাও করতে পারি।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানে হামলার ব্যাপারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই বিবৃতির পর বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে সরাসরি হামলার মতো ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসন নেবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেই এ বিষয়ে যেমন বিরোধ রয়েছে, তেমনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও ইরানে হামলার বিরোধিতা করছে। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশও ইরানে হামলার পরিবর্তে কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান চাইছে। এর অংশ হিসেবে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো গতকাল বৈঠকে মিলিত হন।

এদিকে, ইরানে আক্রমণের বিষয়ে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আমেরিকা পাশে থাক বা না-থাক, ইসরাইল তা নিয়ে চিন্তিত নয়। আমাদের লক্ষ্য ইরানের সব পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পরমাণু ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের লক্ষ্যে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এ কাজের জন্য অন্য কোনো দেশের সম্মতির দরকার নেই। এ বিষয়ে ইসরাইলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে; কারো অনুমতি নেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের বরাত দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ায় আসার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা ইরানের সব পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালাব। আমাদের সেই ক্ষমতা আছে। ইরানে বর্তমান শাসকের পতন হবে কি না, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে কি নাÑতা সেখানকার জনগণের বিষয়। এর কোনো বিকল্প নেই। ট্রাম্প এ কাজে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কি না, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমেরিকার পক্ষে যেটা ভালো, তিনি সেটাই করবেন। ইসরাইলের জন্য যেটা ভালো, আমি সেটা করব।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নেন না কেন, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ডকে বাদ রাখা হয়েছে, সে বিষয়টি এখন অনেক কিছুকে ছাপিয়ে গেছে। এটা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা এবং তৈরি হয়েছে নতুন নতুন বিতর্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প আসলে কোনো নিয়ম-কানুনের ধার ধারেন না। কে কোন পদে আছেন, তা তার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। তিনি দেখতে চান কে তার অনুগত।

মার্কিন প্রশাসনের প্রভাবশালী এ দুই কর্তাব্যক্তিকে ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কারণ উল্লেখ করে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেন—তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বিশ্বাস করেন না। পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোপন নথি ফাঁস হয়ে সাংবাদিকদের হাতে চলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অনেকটা উপেক্ষা করে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে, গত মার্চ মাসে জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তুলসি গ্যাবার্ড সতর্ক করে বলেছেন, অনুমাননির্ভর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানে আক্রমণ চালালে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তুলসি গ্যাবার্ডের এমন বক্তব্যকে সমর্থন করেন মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক ওয়ারনার। কিন্তু গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুলসি গ্যাবার্ডের এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমি তার কথার কোনো পাত্তাই দিই না।

ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাতেগোনা কজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার ঘনিষ্ঠ কজন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ডিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস ভাইস চেয়ার জেনারেল ডান কেইনের সঙ্গে পরামর্শ করে থাকেন।

ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এখন অষ্টম দিনে পড়েছে, আর গোটা বিশ্ব নজর রাখছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেনÑসেটি দেখার জন্য। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, ইসরাইলের পক্ষ হয়ে তার দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াবে কি না। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প মনে করছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘উল্লেখযোগ্য সুযোগ’ রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন, তবে হামলা করবেন কি নাÑসে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সিবিএস আরো জানায়, ট্রাম্প ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র (যেটি ভূগর্ভে অবস্থিত), তাতে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই এমন বোমা রয়েছে, যা ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ধ্বংস করতে সক্ষম হতে পারে।

ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে ইরানকে কূটনৈতিক প্রস্তাব দেবে ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব দেবে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় মিত্ররা। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আবারও জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তার দেশ আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।

জেনেভায় ইরানের সঙ্গে ইউরোপের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

প্যারিসের ঠিক বাইরে লে বোর্গেটে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানকে দেখাতে হবে যে তারা আলোচনার টেবিলে যোগ দিতে ইচ্ছুক।

তিনি জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব দেবে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় মিত্ররা।

ম্যাক্রোঁর মতে, এই প্রস্তাবটি চারটি প্রধান ধাপে গঠিতÑজাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আইএইএর মাধ্যমে ইউরেনিয়ামের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণের’ দিকে এগিয়ে যাওয়ার কাজ আবারও শুরু করা, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের তদারকি, এ অঞ্চলে প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং ইরানের কারাগারে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের মুক্তি।

মার্কিন পরিকল্পনা নিয়েই জেনেভার আলোচনা

এদিকে ইরানকে আলোচনার সুযোগ দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, কেবল এটিই একমাত্র পথ। জেনেভায় সংলাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র বিবিসিপ্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস ডুসেটকে জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বসতে যাওয়া ইউরোপের মন্ত্রীরা মার্কিন পরিকল্পনার ওপরই আলোকপাত করবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে পাওয়া স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবেন তারা।

একটি সূত্র লাইস ডুসেটকে বলেছে, এটা সম্পূর্ণ শূন্যের পথে। নিজের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সব প্রক্রিয়া বন্ধ করাই ইরানের জন্য শেষ উপায়। এমনকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য দেশটির বাইরে একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়াম তৈরির প্রস্তাবের বিষয়টিও একই।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বিবিসির ওই সংবাদদাতাকে বলেছিলেন, ইসরাইল তাদের সামরিক আগ্রাসন সে মুহূর্তে শুরু করেছিল যখন চুক্তিতে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে ছিল ইরান। ইরান মনে করে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি ধ্বংস করাই ছিল ইসরাইলের মূল লক্ষ্য। খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, ‘যে মুহূর্তে এই আগ্রাসন বন্ধ হবে, তখন অবশ্যই কূটনীতিই হবে প্রথম বিকল্প।’

ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের সুযোগের মাঝেই হামলা চলছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহের একটি সময়সীমা ঘোষণা করলেও এ সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, প্রায় ৬০টি ইসরাইলি জেট ইরানের আকাশে ছিল। সেগুলো তেহরান ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে।

আইডিএয়ের মতে, ইরানের পারমাণবিক গবেষণা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইল আরো বলেছে, তারা ইরানের আরো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান আবারও দক্ষিণ ইসরাইলের বিরশেবা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই শহর বৃহস্পতিবারও হামলার শিকার হয়েছিল।

এবারও একই জায়গায় আঘাত হেনেছে ইরান। তবে টার্গেট করা হয়েছে একটি হাই-টেক পার্ক, যেটি হাসপাতালের খুব কাছাকাছি। এ থেকে বোঝা যায়, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশকাটিয়ে ইরান এখনো কতটা কার্যকরভাবে হামলা করতে পারে। আগের রাতগুলোর তুলনায় ইসরাইলের অন্যান্য অংশ তুলনামূলক শান্ত ছিল গত রাতে। এ সময় জেরুসালেম বা তেল আবিবে কোনো বিমান হামলার সাইরেন বাজেনি।

ইসরাইলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

হামলা-পাল্টা হামলার মাঝেই আবারও ইসরাইলজুড়ে একযোগে অন্তত ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনীর ওই হামলায় তেল আবিব, জেরুসালেম ও হাইফাসহ বিভিন্ন প্রান্তে লোকজন আহত হয়েছেন বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল-১২ বলেছে, ইরানের ছোড়া এবারের ক্ষেপণাস্ত্র বহরে অন্তত ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।

যদিও ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, নতুন দফার হামলায় ইরান ২৫টির মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইসরাইলের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বেশকিছু ভবনের ক্ষয়ক্ষতিসহ লোকজন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে । ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এদিকে, জেরুসালেম ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ইরান

মেক্সিকোতে সংঘাতের সুযোগে কারাগার থেকে পালিয়েছে ২৪ কয়েদি

ব্রাজিলে ভারী বর্ষণে বন্যায় নিহত ২৩

ভারতে ঘোষণা ছাড়াই মসজিদ সিলগালা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখল ইইউ

এপস্টেইন ফাইল: সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত গ্রেপ্তার

অতিথির বর্ণবাদী মন্তব্য সম্প্রচার করায় ক্ষমা চাইলো বিবিসি

‘ইসরাইলি মডেল’ ঘিরে মোদি সরকারের নীতিতে নতুন বিতর্ক

ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩