সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উদ্বেগজনক ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চায় না পাকিস্তান। কারণ, কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, এর ফল হবে বিপর্যয়কর।
পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। কাজেই ইরানে যেকোনো অস্থিরতা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃসীমান্ত জঙ্গিবাদ, অস্ত্র পাচার, শরণার্থী প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইরানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি বলেন, ‘ইরানে যেকোনো পরিবর্তন, তা অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত হস্তক্ষেপ যে কারণেই হোক, তা সরাসরি পাকিস্তানের ওপর প্রভাব ফেলবে।’
তিনি সংকট নিরসনে ইসলামাবাদের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পাকিস্তান অতীতে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা পালন করেছে। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনও ইরানের স্বার্থের দিকে নজর রাখে।’
পাকিস্তানের উদ্বেগের মধ্যে একটি হলো বেলুচিস্তানের ওপর প্রভাব। ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বালুচ অঞ্চলের জাতিগত, উপজাতি ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে।
ইরানে অস্থিরতা সীমান্তজুড়ে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং সীমান্তের বাইরে এরা অভিযান সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ইরান যদি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে, তাহলে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য দ্রুতই ভেঙে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব জোহর সেলিম বলেন, ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতার এক বিশাল সংকটের মুখোমুখি। বহিরাগত হস্তক্ষেপ, তা অর্থনৈতিক, সাইবার বা সামরিক যা-ই হোক না কেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ করবে।’
পাকিস্তান এরই মধ্যে লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা সামরিক হস্তক্ষেপ হলে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতেও পড়বে পাকিস্তান।
তেহরানে জোরপূর্বক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন পাকিস্তানের বাইরেও প্রভাব ফেলবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরোধ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সের জন্য উপসাগরীয় স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানের জন্য এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ইরানের পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলবে।’
ইরান বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট, আর তা হলো ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
ইসলামাবাদ সব সময় তেহরানের অভ্যন্তরীণ নীতির সঙ্গে একমত না-ও হতে পারে। তার পরও তারা স্বীকার করে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন পাকিস্তানের জন্য একটি কৌশলগত বিপর্যয় হবে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
আরএ/এসআই