দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির অধীনে নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
এতে আরো বলা হয়, পাকিস্তানের এই সেনা মোতায়েনের লক্ষ্য হলো ‘দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে শক্তিশালী করা’।
এই পাকিস্তানি বাহিনীতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান রয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো যৌথ সামরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অভিযানিক প্রস্তুতির স্তর বাড়ানো।
পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ একজন সরকারি কর্মকর্তাসহ তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, ইরানের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই বিমানগুলো পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, তারা ‘কাউকে আক্রমণ করতে সেখানে যায়নি’।
সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হচ্ছে রিয়াদকে এই আশ্বাস দেওয়া যে, ইসলামাবাদ ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং অভিন্ন ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদে একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।
সূত্র: ডন