পাকিস্তানে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় রোববার ভোরে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গি আস্তানাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির দাবি, অভ্যন্তরীণ হামলার জন্য দায়ী উগ্রবাদীরা ওইসব আস্তানায় লুকিয়ে ছিল।
ইসলামাবাদ সুনির্দিষ্টভাবে কোনো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে তা জানায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলাগুলো আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো হয়েছে। কাবুল থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোরে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালিবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্পে “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযান” পরিচালনা করেছে। এছাড়া সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সহযোগি গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত অক্টোবরেও পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
তথ্যমন্ত্রী তারার বলেন, “পাকিস্তান সর্বদা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট, তবে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজোর জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলার কয়েকদিন পরই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আফগান সীমান্তের কাছের ওই হামলায় ১১ জন সৈন্য এবং এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিল একজন আফগান নাগরিক।
এছাড়া গত শনিবার বান্নু জেলায় এক আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সৈন্য নিহত হন। এরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা আর কোনো “সংযম প্রদর্শন করবে না” এবং অপরাধীদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, চলতি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ৩১ জন মুসল্লি নিহতের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে “আফগানিস্তান-ভিত্তিক নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রকদের” হাত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাকিস্তানের কাছে আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা বন্ধে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তালিবান সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলার জন্য আফগান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে টিটিপি ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে টিটিপি আফগান মাটি ব্যবহার করছে, যদিও কাবুল ও টিটিপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
গত অক্টোবর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। কাতার ও ইস্তাম্বুলে মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এখনও তিক্ত।
সূত্র: এপি