রায়হান আহমেদ তামীম

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীবাসী সাক্ষী হলো এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত ঈদানন্দ উৎসবের। যান্ত্রিক নগরীর প্রাত্যহিক ব্যস্ততা আর চার দেয়ালের গণ্ডি ভেঙে ঈদের নির্মল আনন্দ-উৎসবকে জনপরিসরে ফিরিয়ে আনতে নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত হল তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব।

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। হ্যাকিং, ফিশিং কিংবা এআইয়ের অপব্যবহারে ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত পড়ছে নতুন নতুন ঝুঁকির মুখে। মূলত সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে পুঁজি করেই অপরাধীরা তাদের জাল বিস্তার করে। ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুর শরীফ।

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় নৃশংস হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে টার্গেট করে পেটানো হয়।

১৮ জুলাই, ২০২৪। হঠাৎ করেই যেন পুরো বাংলাদেশ অন্ধকারে তলিয়ে গেল। ইন্টারনেট কাজ করছে না, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, ব্রডব্যান্ডও অফ। কারো কাছে কোনো খবর নেই, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল গুজব, কান্না আর আতঙ্ক। কেউ জানে না—কোথায় কার ভাই গুলিবিদ্ধ, কার বন্ধু নিখোঁজ, কার সন্তান আর নেই।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান নিহার। ইচ্ছা ছিল ভালো একটি সিজিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সোজা বিদেশে পাড়ি জমানোর। সরকারি চাকরি বা দেশে থাকার তেমন কোনো পরিকল্পনাও ছিল না নিহার।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশ থেকে যুক্ত হয়েছিলেন অনেক নারী। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ আবার গৃহবধূ। এসব নারীর সাহসিকতা আর অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন বেগবান হয়েছিল এবং সফল হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়েছিল অনেক ধাপ

ফারিয়া বিনতে রহমান জুলাইয়ের শুরুর দিকে হঠাৎ গিয়েছিলেন টিএসসিতে। শাহবাগে তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ বইছিল। সেই ঢেউয়ে নিজের অজান্তেই গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ফারিয়া। দাবি আদায়ের প্রতিবাদী মিছিলে কণ্ঠ মিলিয়ে সংহতি জানিয়েছেন প্রতিবাদে। তখনো ভাবেননি এই আন্দোলনই একদিন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪-এ সারা দেশ থেকে যুক্ত হয়েছিলেন অনেক নারী। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ আবার গৃহবধূ। এসব নারীর সাহসিকতা আর অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন বেগবান হয়েছিল, সফল হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়েছিল অনেক ধাপ।

আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হলে, পুলিশ তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নেওয়া শুরু করে, এমনকি বাড়িতেও যায়। তখন তাকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মগোপনে চলে যেতে হয়। নোভা একের পর এক লাশ পড়তে দেখেছেন, পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ সহ্য করেছেন, ছাত্রলীগের তাণ্ডব দেখেছেন, কিন্তু কখনো পিছু হটেননি।

সিনথিয়া জাহিন আয়েশা। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং প্রথম সারির যোদ্ধা। আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দিন পর্যন্ত তার অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন আমার দেশকে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে জেন-জিখ্যাত কিশোর প্রজন্ম। বিশ্ব অবাক হয়েছে বাংলাদেশে তারুণ্যের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দেখে। বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে তারা।