কামরুননেসা হাসান

বেগম খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনমনীয়, দৃঢ় ও আপসহীন নাম—আজ আমাদের মাঝে নেই। লক্ষ মানুষের অশ্রু, ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস আর রাষ্ট্রীয় সম্মানে তিনি আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন—স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জানাজায় মানুষের ঢল, প্রার্থনার নীরবতা আর চোখের জলে জাতি তাক

অনেক পথ চলেছি। ক্যামেরার লাল আলো, স্টুডিওর উত্তাপ, রাতভর পরিকল্পনা আর জাতির কাছে পৌঁছে দেওয়া একের পর এক শিল্প—সব মিলিয়ে বিটিভির করিডোর আজও আমার ভেতর অনুরণিত হয়। কিন্তু কিছু স্মৃতি আছে, যেগুলো মনে পড়লে হৃদয়ের ভেতর আলো হেসে ওঠে।

একজন মানুষ এত বহুমাত্রিক প্রতিভা নিয়ে জন্ম নিতে পারেন, তা হুমায়ুন ফরীদির জীবন না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। তাকে কোনো বিশেষণে বাঁধা যায় না; তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বোপরি একজন সংবেদনশীল মানুষ। তার কথা বলায় ছিল নিজস্ব ছন্দ, তার চোখে ছিল চরিত্রের আগুন, তার মুখাব

তরুণ সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী লিখেছিলেন গানের কথা। প্রথমে সুর দেন তরুণ শিল্পী আব্দুল লতিফ। পরবর্তী সময়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ নতুন সুরারোপ করেন, যা আজ সর্বাধিক প্রচলিত এবং একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতীকী সংগীতে পরিণত হয়েছে। তবে ইতিহাস ভুলে যায় না, এ গানের প্রথম সুরারোপক ছিলেন আব্দুল লতিফ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা কেন্দ্রে ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক ঐতিহাসিক ফোক ফেস্টিভ্যাল। মুক্তিযুদ্ধোত্তর নবীন রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের সময়ে আয়োজিত এই উৎসব শুধু লোকসংগীতের বৈচিত্র্যকেই সামনে নিয়ে আসেনি, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক নতুন দিক

শরতের আকাশে সাদা মেঘেরা খেলা করছে-এমন একদিনে জন্ম নিল যে কন্যাশিশু, তার কণ্ঠ একদিন মাতিয়ে তুলবে পুরো জাতিকে। চার কন্যার পর আরেক কন্যা জন্মে পরিবারে কারো অভিমান ছিল কি না, জানা নেই।

ছোটবেলার ঘরোয়া পরিমণ্ডলে গান ছিল অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। মা গাইতেন আপন খেয়ালে, গলার ধ্বনি আর সুরের ঢেউ যেন ঘরটিকে স্নিগ্ধ করে তুলত। সেই সুরেরা নিঃশব্দে শৈশবকে জড়িয়ে ধরেছিল।

আমাদের দেশে একজন লোকসংগীতের সম্রাট ছিলেন, যার কণ্ঠে পল্লিসংগীত-ভাটিয়ালি-মুর্শিদি গান পল্লিবালাদের উদাস করে দিত।

এটি শুধু একটি গান ছিল না—এটি ছিল একেকটি মনোসংলাপ। গানটির রচয়িতা, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলম। হ্যাঁ, একজন মানুষ, যার ভেতরে যেন সংগীতের এক বিশাল সমুদ্র লুকিয়ে ছিল।

ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা রেডিওতে সকালে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সংগীত শিক্ষার আসর প্রচারিত হতো। ‘এখন শুরু হচ্ছে সংগীত শিক্ষার আসর, গান শেখাবেন সংগীত পরিচালক আব্দুল আহাদ’- এমন ঘোষণার পর ওস্তাদ ইয়াসিন খান ও বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী লায়লা আর্জুমান্দ বানুর দ্বৈতকণ্ঠে সা-রে-গা-মা’র উচ্চাঙ্গ