ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাঁচ ঘণ্টা অচল, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাঁচ ঘণ্টা অচল,  দুর্ভোগে যাত্রীরা
ছবি: আমার দেশ

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হয়তো কত স্বপ্নই ছিল মাইশা মুশফিরাতের চোখে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়কের পাশে বাসের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় একটি দুর্ঘটনা থামিয়ে দিল তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন। পেছন থেকে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এই শিক্ষার্থী। আহত হন তাঁর দুই সহপাঠী।

সহপাঠীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ নিরাপদ সড়কের ছয় দফা দাবিতে তাঁরা অবরোধ করেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও সংলগ্ন রেলপথ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা অচল থাকে মহাসড়ক। আটকা পড়ে হাজারো যানবাহন, দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিপিএম এর আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। তবে অবরোধ শেষ হলেও যানজটের ভোগান্তি কাটেনি।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে লোকাল মিনিবাসে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি লরি মিনিবাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এতে মাইশা মুশফিরাতসহ তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইশার মৃত্যু হয়।

নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামে। তিনি মো. সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে। আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে রাজিয়া সুলতানা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের উভয় লেন ও পাশের রেলপথ অবরোধ করেন। তাঁদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, লরিচালককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শোনেন। দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়ক ও রেলপথে চলাচল শুরু হয়।

বারো আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট শামীম আমার দেশকে বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। যান চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় কুমিরা থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়েছে। সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন