চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন

চুয়াডাঙ্গায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ শিক্ষক, পাস করছেন একজন
ছবি: আমার দেশ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে কলেজটি থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন মাত্র ১জন। এতে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বেলা ১১ দিকে এইচএসসি ও সমমান পরিক্ষার ফল প্রকাশের পর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের তথ্য পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটি ২০০১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষকসহ ২২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত।

এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। ফলাফলে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চার কলেজে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭৭ জন।

এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। অন্যদিকে একটি মাত্র কারিগরি কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১ জন। ৫টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৪১০ জন কৃতকার্য হয়েছে।

মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে এত সংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল কেন? তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অভিভাবকেরা মনে করেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর পিছনে একজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন অকৃতকার্য হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন?

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে শিক্ষার মান তলানিতে নেমেছে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।’

কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগী এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক সংকটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল।

আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন