এক সময়কার পুরনো বই আর বুকসেলফগুলো এখন নেই সেখানে। একসময়কার পাঠাগার দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগ অফিস। গত ১৬ বছর দলীয় প্রধানের ছবি আর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলতো রাজনৈতিক কার্যক্রম। আর পাঠাগার নাম দিয়ে লুট হতো সরকারি বরাদ্দ।
এসবের মূল কারিগর ছিলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহ। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা পরিষদের মূল্যবান এই জায়গা দখল করে নিয়েছিলেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নাইক্ষ্যংছড়ি রাহমানিয়া ইসলামী পাঠাগারটি উদ্বোধন করেছিলেন থানা নির্বাহী অফিসার মো. মনোয়ার হোসেন। যেখানে স্থানীয় পাঠকরা বই আর পত্রিকা পড়ে সময় কাটাতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জায়গাটি দখল করে নেন মোহাম্মদ শফিউল্লাহ। ৫ আগস্টের পরও স্থানীয় প্রশাসন সেই জায়গাটি দখলমুক্ত করতে পারেনি।
সরকারি ভূমি ম্যাপ ও প্রতিবেশীদের দলিলের চৌহদ্দিতে পাঠাগারের স্বীকৃতি রয়েছে। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সদর এলাকার ম্যাপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২৭০ নং নাইক্ষ্যংছড়ি মৌজার ১৩৯ নং দাগের ৬৫ শতক জায়গা সরকারি খাস হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। বিভিন্ন সময় পাঠাগারের নামে বরাদ্দও দেওয়া হয় সেখানে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত, নুরুল আলম এই প্রতিবেদককে জানান, পাঠাগারের পেছনে আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচ সিন্ডিকেটের একটি জায়গা রয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল পাঠাগারের সরকারি জায়গাটি কৌশলে ভোগ করা। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেখানে আওয়ামী লীগ অফিসের কার্যক্রম না থাকলেও দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বর্তমানেও।
এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভূমি দখলে যেই জড়িত থাকুক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

