ধর্মান্তরের জেরে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অপহরণ ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগে দুই মাস পর এক নও মুসলিম কলেজ ছাত্রীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে আদালত তার বক্তব্য শুনে তাকে নিজ জিম্মায় থাকার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে আদালতে ভিকটিম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২২) নিজ মতামত উপস্থাপন করেন। তার পূর্ব নাম ছিল তন্নী দে রিপন্না। তিনি আদালতে জানান, স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার পরিবার তাকে অপহরণ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কার জিম্মায় থাকতে চান। জবাবে তিনি নিজ জিম্মায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় থাকার আদেশ দেন।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিমের পিতা-মাতা, স্বজন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের লোকজন। উপস্থিত সবাই তার বক্তব্য শোনেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, ভিকটিম আদালতে অভিযোগ করেন যে ধর্মান্তরের কারণে তাকে চাপ প্রয়োগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্ম ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক চেতনা নাশক ইনজেকশন পুশ করে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আজিমুল হক জানান, আদালতে ভিকটিম নিজ ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিজ জিম্মায় থাকার আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ভিকটিম আয়েশা সিদ্দিকা জারা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সূত্র জানায়, তিনি চলতি বছরের ১ মার্চ চট্টগ্রামের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এরপর ২৮ মার্চ তিনি ঈদগাঁওয়ে এসে কিছুদিন অবস্থান করেন। পরে চট্টগ্রাম ফেরার পথে তাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

