আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ফেনীতে বন্যার উন্নতি, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

এসএম ইউসুফ আলী, ফেনী

ফেনীতে বন্যার উন্নতি, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে রয়েছে। ফলে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে আপন ঠিকানায় ফিরেছেন অনেকেই। অব্যাহত আছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকরি ত্রাণ সহযোগিতা। তবে ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার বন্যাকবলিত এলাকার চার হাজার হেক্টর জমির ফসল। মৎস্য বিভাগ বলছে, ভেসে গেছে এক হাজারের মতো পুকুর ও মাছের ঘের।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ সবকয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইনসহ দুর্যোগকালীন সময়ের প্রয়োজনীয় সব ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পর্যাপ্তসংখ্যক ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম, কন্ট্রোল রুম চালুসহ অন্যান্য সেবা চালু রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুহুরী-কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টি না থাকায় পানি কমলেও ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে প্রায় ৮০টি গ্রাম এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি কমেছে, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। স্থানীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার আবার বন্যার কবলে পড়ে তারা নিঃস্ব হয়েছেন। এখনো আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। তারা ত্রাণ সহায়তা চান না। তারা চান, প্রতি বছর বন্যার ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যাকবলিত হয়েছে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া (আংশিক), ফেনী সদর (আংশিক) ও দাগনভূঞা (আংশিক) উপজেলার ১১৮টি গ্রাম।

এসব এলাকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সব অংশীজনের সহযোগিতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর আগে ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৮২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৯ হাজার ২০০ মানুষ অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুর্যোগে সবচেয়ে নাজুক গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ১৮ জনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরদিকে, বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকেপড়া পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার তৎপরতা ও রান্না করা খাবার বিতরণ এবং তাদের ত্রাণ সহায়তায় সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন