মোহনগঞ্জে ২০০ গজের মধ্যে ৪ ব্রিজ, ৮ কোটি টাকা জলে

মোহনগঞ্জে ২০০ গজের মধ্যে ৪ ব্রিজ, ৮ কোটি টাকা জলে
ছবি: আমার দেশ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ‘শো-পিস’ ৪টি ব্রিজ। মোহনগঞ্জ-টু-আদর্শ নগর সড়কের ৬ নং সোয়াইর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নলজুরি গ্রামে মাত্র ২০০ গজের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। অথচ ব্রিজগুলোর নিচ দিয়ে পানি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর LGED "Program for Supporting Rural Bridges, SupRB" প্রকল্পের আওতায় ব্রীজগুলো নির্মাণ করেছে। নেমপ্লেট অনুযায়ী প্রতিটি ব্রিজ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৩টি ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ব্রিজ অকেজো//

নেমপ্লেটের তথ্য অনুযায়ী ৩টি ব্রিজের চুক্তিমূল্য: চেইনেজ ২০+০: ২ কোটি ০৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৬৯ টাকা, চেইনেজ ১২+৩৯০: ২ কোটি ৭৮ লাখ ০৭ হাজার ১৯.৮৬ টাকা এবং চেইনেজ ১২+৩০: ২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮২.৯৬ টাকা। ৩টির মোট ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ৪র্থ ব্রিজের ব্যয় ধরলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নিচে কোনো নদী, খাল বা নালা নেই। বর্ষা মৌসুমেও ব্রিজের নিচ শুকনা। এমনকি ব্রিজ নির্মাণের ২ বছর অতিবাহিত হলেও নির্মাণের সময়ে করা ডাইভারশন বা বাইপাস রোডের মাটি এখনো সরানো হয়নি। ব্রিজের দুই পাশেই বসতবাড়ি। ফলে জনগণের কোনো কাজেই আসছে না কোটি টাকার এই স্থাপনাগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইকরামুল হক বলেন, ‘এগুলো বিগত সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে। আমি ২০২৫ সালে মোহনগঞ্জে যোগদান করি। তবে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রাক্কালে বিভিন্ন ধরনের জরিপ করা হয়। পরে ডিজাইনারগণ ডিজাইন করাসহ আরও নানান বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা অনুমোদিত হয়।

৬নং সোয়াইর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল মিয়া বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে এই গ্রামে চারটি ব্রিজ ছিল। বিগত সরকারের আমলে এগুলো পুনঃনির্মাণকালে বড় করা হয়। যদিও ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি চলাচল নাই, তবে ব্রিজের নিচ দিয়ে যে খাল অতিক্রম করেছে, তা খনন করা দরকার। তাহলে যারা খালের জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে তারা তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।’

২নং ওয়ার্ডের মেম্বার স্বপন মিয়া বলেন, ‘নলজুরী গ্রামে ৪টি ব্রিজের মধ্যে মাত্র একটা দিয়ে বর্ষাকালে কিছু পানি চলাচল করে। বাকিগুলো অযথা নির্মাণ করা হয়েছে।’

নলজুরী গ্রামের দুলাল মিয়া জানান, ‘আমার বয়স ৮০। কেন এই চারটি ব্রিজ সরকার করল তা বুঝে আসে না। কিছু দিন আগে ৩টি ব্রিজ নতুন করে নির্মাণ করা হয়। আগে ছোট ছোট কালভার্টের মতো ব্রিজ ছিল। কিন্তু তা দিয়ে কখনো পানি চলাচল করত না। কোনো নদী বা হাওরের সঙ্গে সংযোগ নাই। দুই পাশে এখন মানুষের বসতবাড়ি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, ‘২০০ গজের মধ্যে ৪টা ব্রিজের কী দরকার ছিল? পানি না থাকলে ব্রিজ কেন? এটা স্পষ্ট জনগণের টাকার অপচয়।’

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সোয়াইর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন