রাজবাড়ীতে রেলগেটে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

রাজবাড়ীতে রেলগেটে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াগনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ জন। আহতদের গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেনÑ বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। তারা মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেটে পৌঁছানোর পর গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে চলে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, বাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা কয়েকটি ওয়াগনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশাও সংঘর্ষের শিকার হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিচ্ছিন্ন ওয়াগনগুলোও কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ, অসিত ও সাত্তার বিশ্বাস জানান, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্র ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে ওই যানবাহনগুলোকে ধাক্কা দেয়।

তারা আরও জানান, সংঘর্ষে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় হাইওয়ে ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুর রহমান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান আমার দেশকে জানান, ফরিদপুর পিকিং পাওয়ার প্লান্ট থেকে ফাঁকা ২৬টি ডিটিও (তেলের ট্যাংক) রাজবাড়ী অভিমুখে আসার পথে খানখানাপুর রেলগেটের কাছে তিনটি ডিটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় গেটম্যান গেটের বেরিয়ার নামিয়ে দেন এবং তেলের গাড়ি যাওয়ার পর বেরিয়ার তুলে দেন। তখন গেটের উভয় পাশ থেকে যান চলাচল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকস্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া তিনটি ডিটিও হামলে পড়ে। এতে ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা আনন্দ পরিবহনের বাস, মাহিন্দ্র, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর আছড়ে পড়ে ডিটিও। ফলে যানবাহনগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করতে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে বারবার ফোন করে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেলগেট পরিচালনা ও ট্রেনের নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন